টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, জবাব দিয়েছে ইরানও

মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদের ড্রোন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজসহ নানা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, মাটির নিচে গোপন অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা কেন্দ্রগুলোয় নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।

ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতের মতো শক্তিশালী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। খবর আল জাজিরা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী তাদের ড্রোন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজসহ নানা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, মাটির নিচে গোপন অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা কেন্দ্রগুলোয় নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। তেহরানের স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার দিকে এ হামলা শেষ হয়।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং দেশটির সব বাণিজ্যিক ও সামরিক বন্দরে জারি থাকা বিশেষ নৌ অবরোধ কঠোরভাবে বলবৎ রাখা রয়েছে। তেহরান শান্তি চুক্তি না মানা পর্যন্ত এ অবরোধ ও সামরিক চাপ কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের বর্তমান সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছেন। এ বিশাল সংখ্যক সৈন্য যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় অত্যন্ত সতর্ক, মারাত্মক এবং পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে মার্কিন হামলার পর ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে জাস্কের কাছাকাছি একটি এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বন্দর আব্বাস-রুদান সড়কে আরেকটি মার্কিন হামলায় এ রুটের দুটি সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবকাঠামোর ওপর চালানো এ হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিক নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদ শহরে বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। সেখানে বলা হয়েছে, কুয়েত থেকে ছোঁড়া মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে এ বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে।

এদিকে এ হামলার জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা প্রতিহত করছে তারা।

গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বাহরাইনজুড়ে জরুরি সাইরেন বেজে উঠেছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রাণহানি এড়াতে বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি পরামর্শ দিচ্ছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আরও