স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের প্রতিক্রিয়া

‘ট্রাম্পের উচিত কল্পকাহিনির জন্য নোবেল পাওয়ার চেষ্টা করা’

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক আনুষ্ঠানিক ভাষণ, যেখানে দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ভাষণ দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন আরেক দফা সামনে এল। তবে তার প্রতিপক্ষের ব্যঙ্গাত্মক একটি মন্তব্য বেশ আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, কল্পকাহিনির জন্যই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ট্রাম্প। এ পুরস্কার পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা উচিত তার। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক আনুষ্ঠানিক ভাষণ, যেখানে দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ভাষণ দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ।

এ সময় শুল্কনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামরিক নিয়োগ ও জ্বালানিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। অর্থনীতি চাঙা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ‘সোনালি এক যুগ’। কিন্তু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ দাবিকে পুরোপুরি অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্র্যাড শারম্যান কটাক্ষ করে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবনকে আলোচনায় টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বললেন অর্থনীতি চাঙা ও সবকিছু সাশ্রয়ী। আপনি যদি এটা বিশ্বাস করেন, তাহলে হয়তো এটাও বিশ্বাস করবেন যে তিনি তিন স্ত্রীর প্রতিই বিশ্বস্ত ছিলেন।’

ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি জিম ম্যাকগভর্ন বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ অসত্য তথ্য ছড়িয়ে দেয়াটাই ট্রাম্পের কৌশল। অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট এমন হাস্যকর ও ভিত্তিহীন দাবি করলে তা বড় কেলেংকারিতে পরিণত হতো। কিন্তু ট্রাম্প এমনভাবে মিথ্যার স্রোত বইয়ে দেন যে সত্য অনুসরণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।’

ডেলাওয়ারের সিনেটর ক্রিস কুনসের মতে, ঐক্যের সুযোগ হারিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্যে, ‘দেশকে এক করার বদলে আমরা একটি নির্বাচনী সমাবেশের ভাষণ শুনলাম।’

সবচেয়ে তীব্র বাক্যবাণ ছোড়েন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি রাউল রুইজ। মূল্যস্ফীতি থেকে স্বাস্থ্যসেবা, অবসরভাতা থেকে সামাজিক নিরাপত্তা পর্যন্ত ট্রাম্পের একের পর এক দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেন তিনি।

রুইজ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ে আমাদের কাছে মিথ্যা বলেছেন, অথচ তার শুল্কনীতি সবার খরচ বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মিথ্যা বলেছেন, অথচ তার নীতির কারণে লাখো মার্কিন কভারেজ হারিয়েছে। অবসরভাতার সুরক্ষা নিয়ে মিথ্যা বলেছেন, অথচ সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ার ভাঙার চেষ্টা করছেন।’

এরপরই আসে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যটি, ‘ট্রাম্প মরিয়া হয়ে নোবেল পুরস্কার চান। এত মিথ্যার পর, তার উচিত কল্পকাহিনির জন্য একটা নোবেল পাওয়ার চেষ্টা করা।’

মন্তব্যটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে ওঠে।

ভাষণ চলাকালেই কংগ্রেস কক্ষে উত্তেজনা দেখা যায়। টেক্সাসের প্রতিনিধি আল গ্রিন ‘ব্ল্যাক পিপল আর নট এপস!’ লেখা প্ল্যাকার্ড তুললে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিনেসোটার ইলহান ওমর চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি মার্কিনদের হত্যা করেছেন।’ মিশিগানের রাশিদা তালেব বলেন, ‘এপস্টাইন ফাইল প্রকাশ করুন।’

পরদিন ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ওমর ও তালেবকে নিয়ে কটূক্তি করেন। তাদের ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত ওদের।’ এ মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেন। ফ্লোরিডার প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডসে এক্সে লেখেন, ‘মাত্র এক বছরে নজিরবিহীন পরিবর্তন এসেছে। অর্থনীতি চাঙা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, সীমান্ত সুরক্ষিত, সামরিক নিয়োগ রেকর্ড পর্যায়ে।’

ওকলাহোমার সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির এক নির্ভীক যোদ্ধা। উইসকনসিনের প্রতিনিধি টনি উইড শিল্পায়ন পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

ট্রাম্পে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ও এর প্রতিক্রিয়া মার্কিন রাজনীতির সাম্প্রতিক মেরুকরণকে আরেকবার স্পষ্ট করেছে। কারণ ডেমোক্র্যাটদের মতে, ভাষণে যে সমৃদ্ধির ছবি আঁকা হয়েছে তা সাধারণ মানুষের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। অ্যারিজোনার প্রতিনিধি আদেলিতা গ্রিজালভা পুরো সন্ধ্যার সারসংক্ষেপ টানেন এভাবে, ‘দুই ঘণ্টার অসংলগ্ন কথা, বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। প্রেসিডেন্সির এক বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় কম নিরাপদ, বেশি বিভক্ত এবং বেশি ব্যয়বহুল।’

আরও