যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর গতকাল নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এদিন মন্ত্রিসভার চার সহকারী পদত্যাগ করেন এবং ৭০ জনের বেশি লেবার আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, আরেকটি সুযোগ চেয়ে দলের কাছে করা স্টারমারের আবেদন কার্যত কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। খবর রয়টার্স।
লন্ডনে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া আবেগপূর্ণ এক ভাষণে দল ও ভোটারদের তার পাশে থাকার আহ্বান জানান স্টারমার। তিনি বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই শুধু বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে।
দ্য টাইমস জানিয়েছে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং আরো কয়েকজন মন্ত্রিসভা সদস্য বিদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একটি সময়রেখা নির্ধারণের কথা বিবেচনা করতে বলেছেন। গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের অন্যতম বাজে পরাজয়ের পর দলীয় আইনপ্রণেতারা প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টারমারকে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। অন্যদিকে আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেভিড ল্যামিও তাকে বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানাচ্ছেন।
নিজেদের পদত্যাগের কারণ হিসেবে চারজন মন্ত্রিসভার সহকারী জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস, ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার ২০২৯ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে লেবারকে নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি নন। তারা এমন একটি নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু করতে চান, যে প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও স্থায়ী হতে পারে।
অবশ্য স্টারমার দ্রুত কয়েকটি শূন্য পদে নতুন নিয়োগের ঘোষণা দেন।
তবে ব্রিটেনের নানা সমস্যা মোকাবিলায় আরো দৃঢ়ভাবে কাজ করতে পারবেন কিয়ার স্টারমার— ভোটার ও দলকে এটা বোঝানোর স্টারমারের চেষ্টা সম্ভবত সফল হচ্ছে না তিনি।
সাবেক জুনিয়র মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন, স্টারমার বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি না দিলে নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলবেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে ৮০টি সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন।
তিনি সেপ্টেম্বরে নেতৃত্ব নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।
এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। আজ সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
নেতৃত্ব বদল প্রসঙ্গে কিয়ার স্টারমার বলেন, ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্টারমার প্রতিশ্রুতি দেন জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ‘আরো শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত’ ব্রিটেন গড়তে তিনি ‘আশাবাদ’ ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় ‘দ্রুততার সঙ্গে’ সরকার পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও বামপন্থী গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যাল্ড ওয়েলশের উত্থান ঠেকাতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।