ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য ঘিরে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গাজায় দুই মাস ধরে চলমান খাদ্য ও ত্রাণ অবরোধ বন্ধের আহ্বান জানানোয় এই তিন পশ্চিমা নেতাকে ‘হামাসকে উৎসাহদাতা’ ও ‘ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য দায়ী’ বলেন নেতানিয়াহু। এই মন্তব্যকে ‘অপবাদ’ আখ্যা দিয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করলেই কাউকে হামাসপন্থী বা ইহুদিবিদ্বেষী বলা নিছকই বানোয়াট ও অপমানজনক। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘হামাস ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংস করতে চায়। আমি বুঝতে পারি না কীভাবে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও কানাডার নেতারা এই সহজ সত্যটি দেখতে পান না।‘ তিনি আরো বলেন, ‘যখন ধর্ষক, খুনি, শিশু হত্যাকারীরা আপনাদের ধন্যবাদ জানায়, তখন আপনাদের অবস্থান ন্যায়বিচারের বিপরীত পাশে।‘
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার দাবি করেন, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মী হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক মহলের ভুল তথ্য ছড়ানো দায়ী। তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার সম্প্রতি বলেছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় ১৪,০০০ শিশু মারা যেতে পারে। যদিও পরে জাতিসংঘ ব্যাখ্যা দেয়, আসল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ এপ্রিল থেকে ২০২৬ মার্চের মধ্যে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা এত হতে পারে—অর্থাৎ সময়সীমা দুই দিন নয়, এক বছর।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লুক পোলার্ড বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলি কূটনীতিকদের হত্যার নিন্দা জানাই। তবে আমরা এটাও একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর সর্বোত্তম উপায় হলো গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হামাসের পক্ষ থেকে জিম্মিদের বিনাশর্তে মুক্তি দেয়া এবং ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ—খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী বিলম্ব ছাড়াই পৌঁছে দেয়া।‘
ইসরায়েলের প্রতি ঐতিহাসিক আনুগত্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জার্মানি জানিয়েছে, গাজায় যে ত্রাণ ঢুকছে তা অত্যন্ত কম এবং অনেক দেরিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার নীতির সঙ্গে ইসরায়েলের বাণিজ্য চুক্তি খাপ খায় কি না, তা পর্যালোচনার প্রস্তাবে জার্মানি ভোট দেয়নি।
আরব বিশ্বের একাধিক মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, পশ্চিমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান জোরদার করার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলের বৈশ্বিক সুনামকে অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন এবং উদ্দেশ্যহীন এক অকার্যকর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘গাজাবাসী এই নিষ্ঠুর সংঘাতের সবচেয়ে নিষ্ঠুর অধ্যায় পার করছে। তারা যেখানে বন্যার মতো সাহায্য পাওয়া উচিত, সেখানে এক চামচ সাহায্য পাচ্ছে।‘