মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চরম পর্যায়ে পৌঁছানো বিবাদ থেকে পিছিয়ে এলেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বুধবার ভোরে এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে করা কিছু পোস্ট নিয়ে আমি অনুশোচনায় ভুগছি। কিছু পোস্টে বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছিল।‘ খবর এপি।
মাস্কের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতিতে হোয়াইট হাউসে তার প্রভাব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারি বড় ঠিকাদার হিসেবে মাস্কের কোম্পানিগুলো যেমন স্পেসএক্স, টেসলা ও নিউরালিঙ্ক মার্কিন সরকারের রোষানলে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এরইমধ্যে হুমকি দিয়েছেন যে, মাস্কের সরকারি চুক্তিগুলো বাতিল করা হতে পারে।
এর আগে, মাস্ক একটি পোস্ট মুছে ফেলেন যাতে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন, সরকার কুখ্যাত শিশু নির্যাতনকারী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্কের তথ্য গোপন করছে। তবে তিনি যে পোস্টগুলোতে ট্রাম্পের ব্যয়ের বিলকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের কৃতিত্ব দাবি করেন—সেই পোস্টগুলো এখনো এক্স-এ রয়ে গেছে।
এদিকে, গত রোববার এনবিসির সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কোনো আগ্রহ তার নেই এবং হুঁশিয়ারি দেন, মাস্ক যদি আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সহায়তা করেন, তবে তার জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্পকে নির্বাচনে সহায়তা করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা মাস্ক বর্তমানে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িকভাবে চাপে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে তার কোম্পানিগুলোর সরাসরি সরকারি অংশগ্রহণ থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই অনুশোচনামূলক মন্তব্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ দুই ক্ষমতাবান ব্যক্তিত্বের সম্পর্ক এখন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।