মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জাপানে প্লাস্টিক ব্যাগ–ট্রে ও গ্লাভসের ঘাটতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ন্যাফথা নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ কম থাকাই জাপানে প্লাস্টিক ব্যাগ, ট্রে ও খাবার পরিবহনের গ্লাভসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ন্যাফথা থেকেই প্লাস্টিকসহ অনেক জিনিস তৈরি হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জাপানের দোকান, সুপারমার্কেট আর বেকারিগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। অনেক জায়গায় প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও দাম বেড়ে গেছে। ফলে কিছু দোকান এখন গ্রাহকদের বলছে—নিজের ব্যাগ বা পাত্র নিয়ে আসতে।

জাপানের খাদ্য শিল্পে প্রচুর প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। দেশটিতে বছরে ৮০ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার হয়, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এ খাতে লাগে।

মধ্যপ্রাচ্য জাপানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস। এ জ্বালানি তেল থেকে ন্যাফথা উৎপাদন করা হয়, যা পরে মুদ্রণ কালি, প্লাস্টিক, আঠা ও চিকিৎসা-সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

জাপান পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (জিপিসিএ)-এর তথ্যানুযায়ী, কেনাকাটার ব্যাগ ও ময়লার ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত পলিইথিলিনের উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মার্চে ৬২ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদনেও বড় ধরনের পতন রেকর্ড করা হয়েছে।

সরকার বলছে, এটি সাময়িক সরবরাহ সমস্যা। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। সাধারণ মানুষও এখন এটাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে।

২০২০ সাল থেকে জাপানে প্লাস্টিক ব্যাগের জন্য অর্থ নেয়া বাধ্যতামূলক। তারপরও খাবার প্যাকেজিংয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার খুব বেশি ছিল। এখন সেই ব্যবস্থায়ও চাপ পড়ছে।

কিছু দোকানে প্লাস্টিক ট্রে না থাকায় খোলা অবস্থায় ফল-সবজি রাখা হচ্ছে। আবার কিছু বেকারিতে রুটি রাখার ব্যাগ শেষ হয়ে গেছে, এমনকি খাবার পরিবহনের গ্লাভসও কমে গেছে।

শহরের আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থাও সমস্যায় পড়েছে, কারণ নির্দিষ্ট রঙের ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়। এখন কোথাও কোথাও বিকল্প ব্যাগ ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে।

এই সমস্যা শুধু জাপানে না, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানেও দেখা দিচ্ছে। সেখানে প্লাস্টিক ব্যাগের চাহিদা বাড়ার প্রভাব পড়েছে দামে।

আরও