মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও কঠিন সামরিক অভিযান শেষে দেশে ফেরার পথে থাইল্যান্ডে যাত্রাবিরতি করবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। থাই কর্মকর্তারা গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এপি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সহায়তা করছিল লিংকন। অঞ্চলটিতে মোতায়েনকালে রণতরীটি টানা ২৫০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করে রেকর্ড গড়েছে। দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকায় জাহাজের নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। একইসঙ্গে খাবার ও পরিচ্ছন্নতাসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির খবরও পাওয়া গেছে।
থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি জানান, আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডে থামবে লিংকন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ফেরার আগে নাবিকদের বিশ্রাম ও দীর্ঘদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রয়্যাল থাই নেভি জানিয়েছিল, একটি মার্কিন নৌবহরের অংশ হিসেবে তিনটি জাহাজ পূর্ব থাইল্যান্ডে থামার কথা রয়েছে। এ সফরের সময় কোনো সামরিক মহড়া হবে না বলেও জানানো হয়।
দীর্ঘ সময় বিমানবাহী রণতরীতে মোতায়েন থাকলে বাড়ি থেকে দূরে থাকা সেনাসদস্যদের ওপর চাপ বাড়ে। একইসঙ্গে জাহাজ ও এর সরঞ্জামের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সংঘাত কিছুটা কমলেও মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনর্বহাল করা অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা দেয়নি। চলতি সপ্তাহেই সংঘাত শুরুর ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
এদিকে গতকাল মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তার কারণে সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলোয় কার্যকরভাবে ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরবরাহ পুনরায় পূরণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লেগেছে।
লিংকন প্রসঙ্গে অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল বলেন, সমস্যাটি পর্যাপ্ত প্রোটিন বা সবজি নিয়ে ছিল না। বরং দীর্ঘ সময় জাহাজে থাকা নাবিকরা যেসব জিনিস প্রত্যাশা করেন সেসবের ঘাটতি ছিল। যেমন পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী, এনার্জি ড্রিংক ও কোমল পানীয়।
তিনি বলেন, যন্ত্রাংশ, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা আলাদা। তাই এসব সরবরাহের ব্যবস্থাও আলাদাভাবে ঠিক করতে হয়েছে। সমুদ্রে সরবরাহ পুনরায় পূরণের প্রক্রিয়াটি ঠিকঠাক করতে নৌবাহিনীর কিছুটা সময় লেগেছে বলেও জানান তিনি।
কডল বলেন, ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের শুরুতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু ঘাটতি ও সমন্বয়ের সমস্যা ছিল—এ সমালোচনা যথার্থ। তবে এখন পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় রয়েছে।