ইরানের বিরুদ্ধে আবারও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে জাতিসংঘ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি অভিযোগ করেছে, ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে—যে চুক্তির লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া ঠেকানো। ইরান অবশ্য বারবার অস্বীকার করে বলছে, তাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি উৎপাদন।
জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান ‘কঠোর জবাব’ দেবে। তবে দেশটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাবে না। এরইমধ্যে তারা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।
ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া এ নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে দাবি করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জাতিসংঘ মহাসচিবকে সতর্ক করে বলেছেন, এ পদক্ষেপ হবে বড় ধরনের ভুল।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের জন্য আবারও অস্ত্র আমদানি-রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এছাড়াও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট যেকোনো কার্যক্রমে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশও কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, ইরানের মুদ্রা রিয়াল নতুন করে রেকর্ড পতনের মুখে পড়েছে। শনিবার এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়াল নেমে দাঁড়ায় ১১,২৩,০০০-এ, যা একদিন আগে ছিল প্রায় ১০,৮৫,০০০।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো বলছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা আছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল মানেই কূটনীতির ইতি নয়। আমরা আলোচনার সুযোগ রাখতে চাই।‘
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার পক্ষপাতী। তবে ইরানকে ‘সৎভাবে সরাসরি আলোচনায়’ বসতে হবে। ততদিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।