তবে এতে আপত্তি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আশঙ্কা, এর ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন কোম্পানিগুলো মেক্সিকোর বাজারে ‘পারমেজান’ বা ‘ফেটা’র মতো নামের পনির বিক্রি করতে পারবে না।
মেক্সিকোর সরকারি দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। গত মে মাসে মেক্সিকো ও ইইউর মধ্যে সই হয় চুক্তিটি। জিআই পণ্যের সুরক্ষা দেয়া চুক্তির অন্যতম বড় শর্ত। এতে শত শত ইউরোপীয় পণ্যের নাম রয়েছে। এসব নাম নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উৎপাদন স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন ইতালির উত্তরাঞ্চলের ‘পারমিজানো রেজিয়ানো’ ও গ্রিসের নির্দিষ্ট অঞ্চলের ‘ফেটা’। চুক্তিতে এসব নামের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ইউরোপের বাইরের কোনো কোম্পানি এসব নামের পনির মেক্সিকোর বাজারে বিক্রি করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, পারমেজান বা ফেটার মতো নাম কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের পণ্যের জন্য সংরক্ষিত হওয়া উচিত নয়। এগুলো সাধারণ ধরনের পনিরের নাম। ফলে মেক্সিকোর নতুন চুক্তি মার্কিন পনির উৎপাদকদের জন্য বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।
ইউএস ডেইরি এক্সপোর্ট কাউন্সিলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেইমি কাস্তানেদা বলেন, ‘ইউরোপকে সুবিধা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর যেসব কোম্পানি বছরের পর বছর ধরে এসব নামে পনির বানিয়ে বিক্রি করে আসছে, তাদের যেন বাজার থেকে বের করে দেয়া না হয়।’
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য আলোচনা চলছে। চলতি বছর একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করছে দুই দেশ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি বা ইউএসএমসিএ নবায়নের আলোচনাও চলছে। মেক্সিকোর অর্থনীতির জন্য এ চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমন পরিস্থিতিতে পনিরের নামের সুরক্ষার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ মার্কিন পনির রফতানিকারকদের জন্য মেক্সিকো একটি বড় বাজার। দেশটিতে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পনির রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট দুগ্ধপণ্য রফতানির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ডলার।
মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম বড় পনির ভোক্তা দেশ। দেশটির নিজস্ব জনপ্রিয় পনিরও রয়েছে। এর মধ্যে আছে স্ট্রিংযুক্ত ওয়াহাকা চিজ ও কেসো ফ্রেস্কো। তবে ১৯৮০-এর দশক থেকে মেক্সিকোয় পনির আমদানি বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির মোট পনির ব্যবহারের প্রায় ৩০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এর বড় অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত খাবারের নাম সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।