ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ থাকবেন ট্রাম্প

আসন্ন এই আলোচনাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান এবার সমঝোতার জন্য আগ্রহী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কঠোর অবস্থানের পরিণতি কী হতে পারে, তা ইরান আগেই টের পেয়েছে। তাই চুক্তি না করার পরিণাম এবার ইরান আর ভোগ করতে চাইবে না।

জেনেভায় শুরু হতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা। সেই আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তার বিশ্বাস, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। খবর বিবিসি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ আলোচনা। এমন একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে আলোচনাটি হতে যাচ্ছে, যখন ইরানকে বারবার আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে, সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বাস্তবসম্মত হয়েছে বলে তারা মনে করছে।

ইরানের ভাষ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় এ আলোচনার মূল বিষয় হবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। তবে যুক্তরাষ্ট্র আগে বলেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মতো অন্যান্য বিষয়গুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

আসন্ন এই আলোচনাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান এবার সমঝোতার জন্য আগ্রহী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কঠোর অবস্থানের পরিণতি কী হতে পারে, তা ইরান আগেই টের পেয়েছে। তাই চুক্তি না করার পরিণাম এবার ইরান আর ভোগ করতে চাইবে না।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি বাড়ছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে বিবিসি নিশ্চিত করেছে, ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে, যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে তিনি বলেন, জেনেভায় তিনি একটি ন্যায্য এবং সমতাভিত্তিক চুক্তি করতে এসেছেন। তবে হুমকির মুখে নতি স্বীকার করার বিষয়টি আলোচনায় নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জবাবে ইরানও নিজস্ব শক্তি প্রদর্শন করেছে। সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া শুরু করেছে।

মঙ্গলবারের আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ধারণা, তেহরানের সাথে চুক্তিতে পৌঁছানো ‘খুবই কঠিন’ হবে। সোমবার রুবিও বলেন, তিনি মনে করেন, এখানে কূটনৈতিকভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। কিন্তু একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে।

আরও