শান্তি চুক্তির পরও পাল্টাপাল্টি হামলা ও দোষারোপ অব্যাহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ‘সামরিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করতে’ বাধ্য হতে পারে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আজ ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় উত্তেজনা বাড়ার ধারাবাহিকতায় এ হামলা হয়

চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি স্বাক্ষর হয়েছে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির। এখন সেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ‘সামরিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করতে’ বাধ্য হতে পারে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আজ ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় উত্তেজনা বাড়ার ধারাবাহিকতায় এ হামলা হয়।

এর আগে মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা ফের ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। যুদ্ধ চলাকালে এ রুটে নৌ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার অন্তর্বর্তী চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে আবার জাহাজ চলাচল চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো দীর্ঘমেয়াদি বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। আর যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

এক সপ্তাহ আগে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে এক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। কিন্তু তারপর থেকেই যুদ্ধ ও পারস্পরিক অভিযোগ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গতকাল ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এমন সময় আসতে পারে যখন আমরা আর সংযম দেখাতে পারব না এবং যে কাজটি আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, সেটি সামরিকভাবে সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।

ট্রাম্পের ওই পোস্টের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। একই সময়ে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের আইআরজিসি জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব হামলা চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা হতাহত হওয়ার বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে ‘সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির উদ্ধৃতি অনুযায়ী— বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, আগামী দিনগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘নরকসম পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হবে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা করেনি।

তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের সরাসরি জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে গতকাল জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলার আগে বৃহস্পতিবার একটি কার্গো জাহাজেও হামলা হয়েছিল, যা সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধির সূচনা করে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরের ভেতরে শত শত জাহাজ আটকে পড়েছিল। যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারও রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে সেগুলো আবার হরমুজ দিয়ে চলাচল শুরু করায় সরবরাহ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় নেমে এসেছে।

ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণের একটি নৌপথ ব্যবহারের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে তেহরান ভবিষ্যতে হরমুজ ব্যবহারের জন্য ফি আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের জলসীমার ভেতর দিয়ে উত্তরের পথ ব্যবহার করতে জাহাজগুলোকে উৎসাহিত করছে।

আরও