গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুরু হলেও, শান্তি আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। হামাসের পলিটব্যুরো সদস্য মোহাম্মদ নাজ্জাল রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চায় তারা এবং অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে এখনই প্রতিশ্রুতি দিতে পারছে না। হামাসের এই অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধের সমাপ্তি টানার পরিকল্পনা আরো জটিলতার মুখে পড়লো।
নাজ্জাল দোহা থেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, গাজা পুনর্গঠনের জন্য হামাস পাঁচ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত। তবে শর্ত হলো— ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা এবং সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাজ্জাল বলেন, ‘আমি হ্যাঁ বা না-এর মাধ্যমে এর উত্তর দিতে পারি না। সত্যি বলতে, এটি নির্ভর করছে প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রকৃতির ওপর। আপনি যে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলছেন, তার অর্থ কী? অস্ত্রগুলো কার হাতে তুলে দেয়া হবে?’ তিনি আরো যোগ করেন যে, পরবর্তী আলোচনার ধাপের বিষয়গুলো, যেমন অস্ত্র, কেবল হামাসের নয়, অন্যান্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও জড়িত এবং এই বিষয়ে বিস্তৃত ফিলিস্তিনি ঐকমত্যের প্রয়োজন হবে।
নাজ্জালের এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে হামাসের অবস্থানের বড় ধরনের ফারাক তুলে ধরল। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে অবিলম্বে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে, এরপর নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিশনাল বডির তত্ত্বাবধানে একটি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে গাজার শাসনভার হস্তান্তর করতে হবে।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, হামাস এখনো তাদের সব জিম্মিকে মুক্তি দেয়নি এবং নিরস্ত্রীকরণের ধারা মানছে না। ‘কোনো যদি, কিন্তু নয়—হামাসকে পরিকল্পনার ২০ দফা বাস্তবায়ন করতেই হবে,’ বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছি, এবং আমি ধরে নিচ্ছি তারা তা রাখবে।‘