মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সর্বশেষ পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতিতে তিনি ‘খুশি নন’। তবে সমাধান খুঁজতে আলোচকদের আরো সময় দিতে রাজি আছেন। বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনা আবারও অচলাবস্থায় শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে, ইরান যদি বড় পরিসরে চুক্তিতে না আসে, তবে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে। খবর এপি।
ইরান দাবি করছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রাখে এবং অস্ত্র তৈরির কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করছে। ট্রাম্প জানান, ইরানের ‘কোনো মাত্রায়’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ গ্রহণযোগ্য নয়। সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত কতটা কাছে—এ প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, ‘বলতে চাই না।‘
আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি বিপরীত সুরে জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং কিছু সময় পেলে সমাধান সম্ভব। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। এরইমধ্যে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মীদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্রিটেন, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়াও তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে।
ইরান–ইসরাইল সংঘাতের সম্ভাবনায় অঞ্চলজুড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রসি জানান, কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় ইরান সত্যিই সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করেছে কি না তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্টোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কূটনীতিক পথে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।