পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধ চান ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী

ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কত উপলক্ষে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সামরিক অবরোধ

ওয়াইনেট নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরকে ইহুদি ধর্মগ্রন্থে ব্যবহৃত ‘জুদেয়া ও সামারিয়া’ নামে উল্লেখ করেন স্মোটরিচ। তিনি বলেন, ‘জুদেয়া ও সামারিয়ায় যুদ্ধ করতে হবে, গাজায় আমরা যা করেছি, সেখানে তা-ই করতে হবে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজায় চালানো সামরিক অভিযানের পুনরাবৃত্তি চান ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। তিনি বলেছেন, পশ্চিম তীরে ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে এবং সেখানে কোনো ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ রাখা যাবে না। তার এ বক্তব্যের মধ্যেই ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কত উপলক্ষে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক অবরোধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের চলাচলে এ বিধিনিষেধ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। খবর আল জাজিরা।

রোববার প্রকাশিত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরকে ইহুদি ধর্মগ্রন্থে ব্যবহৃত ‘জুদেয়া ও সামারিয়া’ নামে উল্লেখ করেন স্মোটরিচ। তিনি বলেন, ‘জুদেয়া ও সামারিয়ায় যুদ্ধ করতে হবে, গাজায় আমরা যা করেছি, সেখানে তা-ই করতে হবে।’ একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘সন্ত্রাসী কর্তৃপক্ষ’ আখ্যা দিয়ে সেটি ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উত্তেজনা কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে স্মোটরিচ ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজায় পরিচালিত অভিযানের আদলে পশ্চিম তীরেও ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, ‘হামাসকে গাজায় যেভাবে ভেঙে দেয়া হয়েছে, জুদেয়া ও সামারিয়ায়ও কোনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো থাকবে না। কোনো সন্ত্রাসী, কোনো অস্ত্র, কোনো সুড়ঙ্গ থাকবে না।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বাড়ছে। চলতি বছর তা আরো তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়টি হামলা। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ।

স্মোটরিচের বক্তব্যের পর রোববার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, এ বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করা, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল এবং জোরপূর্বক সংযুক্তিকরণের লক্ষ্যে ইসরায়েলি সরকারের নেয়া নীতিরই অংশ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এ ধরনের বক্তব্য ও নীতিকে উৎসাহিত করছে বলেও সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য, এতে ইসরায়েল তার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রোববার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শত শত ইসরায়েলি। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, তারা মরক্কান গেট দিয়ে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তালমুদিক ধর্মীয় আচার পালন করে। একই সময়ে মসজিদ ও জেরুজালেমের পুরনো শহরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরো জোরদার করা হয়।

আরও