ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলার পর বুশেহর প্রদেশে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) অ্যাকাউন্টগুলোর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর গলফ নিউজ।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহরের স্থানীয় কর্মকর্তা এহসান জাহানিয়ান অভিযোগ করেছেন, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী একটি স্থানে এ আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওই কর্মকর্তার দাবি, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর তাদের সব ধরনের হামলা শেষের ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ এ হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।
এর আগে ইরানের গণমাধ্যমগুলো বুশেহর ও এর আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করলেও, ঠিক কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে বা এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুরো প্রদেশজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ওই স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, ড্রোন অবকাঠামো কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার ছিল, যা মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ ও স্প্লিন্টার বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে পড়েছে। তবে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহাঙ্গিরিয়ান নিশ্চিত করেন যে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাউন্ডারি বা পেরিমিটার (সীমানা প্রাচীর এলাকা) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পারমাণবিক মূল স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়নি। তেহরানের কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল রিঅ্যাক্টর বা উৎপাদন অবকাঠামো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও অক্ষত রয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
ঐতিহাসিকভাবে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রায় ২০ বছর আগে রাশিয়ান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের সহায়তায় নির্মিত হয়েছিল। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যতবারই সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, প্রতিবারই নাতাঞ্জ, ফোরদো কিংবা ইসফাহানের মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল। কিন্তু রুশ ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও স্পর্শকাতরতার কারণে বুশেহর কেন্দ্রটি সবসময়ই হামলার বাইরে ছিল।