বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ইউরোপীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (সিএআর)। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গবেষণা বলছে, জান্তা সরকার চীনের মাধ্যমে ইউরোপে তৈরি ‘অ্যান্টি-জ্যামিং’ প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে, যা ড্রোনকে সিগন্যাল বিঘ্ন বা জাল সিগন্যাল (স্পুফিং) থেকে রক্ষা করে। পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ রাজ্যে ভূপাতিত সামরিক ড্রোনে এই উন্নত ন্যাভিগেশন মডিউল পাওয়া গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। সিএআর জানায়, এসব ড্রোনে অস্ত্র বহনের জন্য বিশেষ রিলিজ মেকানিজমও বসানো হয়েছিল।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার তীব্র সংঘাতে রয়েছে। সেনা শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সীমান্তের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। গত এক বছরে জান্তা ড্রোন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ড্রোন প্রযুক্তিতে এখন বিশ্বের তৃতীয় শক্তিধর দেশ মিয়ানমার।
১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কারণে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করা হয়। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা পর্যাপ্ত নয়, সেইসঙ্গে সব ইইউ সদস্যরাষ্ট্র সমানভাবে প্রয়োগ করছে না।
জাস্টিস ফর মিয়ানমার–এর মুখপাত্র ইয়াদানার মাউং বলেন, ‘এমন গবেষণা প্রতিবেদনে আমি বিস্মিত নই। এটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যেখানে যোগাযোগ সরঞ্জাম, স্পাইওয়্যার, ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) যন্ত্রাংশ, বিমান ও নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজের জন্য প্রপালশন সিস্টেম রপ্তানি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান জান্তা সরকারের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এমনটা করলে জান্তা বাহিনী কিছুটা দমবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিষেধাজ্ঞার আওতা আরো বাড়াতে হবে। জান্তা যেন অর্থ, অস্ত্র ও তেল না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। এমনটা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সহযোগী দেশগুলোকে সঙ্গে নিতে হবে।’