ইউক্রেন যুদ্ধে আগ্রাসন চালানো শক্তিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য পশ্চিমা নেতারা হয়তো পর্যবেক্ষণের রাখছেন যে, বৈঠকটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর রয়টার্স।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সপ্তাহে বেইজিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং উনের সমাবেশ প্রমাণ করে, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার জন্য কর্তৃত্ববাদী শাসনগুলোর ওপর চীনা প্রেসিডেন্টের প্রভাব কতটা গভীর। বিশেষ করে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক-কেন্দ্রিক কূটনীতি দীর্ঘদিনের মার্কিন জোটগুলোকে চাপে ফেলছে।
বেইজিংয়ে বিশ্বনেতাদের বৈঠকটি নতুন এক ত্রিপক্ষীয় অক্ষের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে। জুন ২০২৪-এ রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে একই ধরনের ঘনিষ্টতার ওপর ভিত্তি করে এ নতুন জোট এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।
শি জিনপিং সোমবার এক সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আধিপত্যবাদ এবং ক্ষমতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়া চালিয়ে যেতে হবে এবং সত্যিকারের বহুপক্ষীয়তা অনুশীলন করতে হবে।‘ ধারণা করা হচ্ছে, এই মন্তব্য প্রশান্ত মহাসাগরের অপর প্রান্তে তার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে সূক্ষ্ম খোঁচা।
তিয়ানজিনে সোমবারের শীর্ষ সম্মেলনে শি এবং পুতিন ২০টিরও বেশি পশ্চিমা-বহির্ভূত দেশের নেতাদের কাছে একটি নতুন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আগে কিমের সঙ্গে তাদের বৈঠক এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চের বিশ্লেষক ইয়ংজুন কিম বলেন, ‘রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া প্রায় অনিবার্য বলে মনে হয়।‘ তিনি উল্লেখ করেন, কীভাবে ইউক্রেনের সংঘাত মস্কো এবং পিয়ংইয়ংকে আরো কাছাকাছি এনেছে।
কিম ইউক্রেন সংঘাতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন ও ভারত রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে গেলেও, উত্তর কোরীয় নেতা ইউরোপের দোরগোড়ায় পুতিনকে সমর্থন করতে ১৫,০০০ এরও বেশি সৈন্য পাঠিয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি পিয়ংইয়ংয়ে রুশ নেতাকে আতিথ্যও দিয়েছিলেন, যা ২৪ বছরের মধ্যে এ ধরনের প্রথম শীর্ষ বৈঠক। এটিকে শি জিনপিংকে উপেক্ষা এবং চীনের ওপর উত্তর কোরিয়ার নির্ভরতা কমানোর একটি চেষ্টা হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পুতিন এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে বলেছেন, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একটি ন্যায্য ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা উচিত, যা ন্যাটো এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত রাশিয়ার দাবির এক সংক্ষিপ্ত রূপ। বেইজিংয়ে তার এই সফর এবং শি ও কিমের সঙ্গে তার সম্ভাব্য বৈঠক পুতিনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে। বুধবারের কুচকাওয়াজে ইরানের প্রেসিডেন্টেরও যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা একে ‘অশান্তির অক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।