ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন যে, ইউরোপের সমর্থনে ইউক্রেন তাদের মূল সীমানা পুনরুদ্ধার করে যুদ্ধ জয় করতে পারে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস।
এই আকস্মিক পরিবর্তন কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, জেলেনস্কিকে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে এবং শান্তির জন্য রাশিয়ার কাছে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে।
ট্রাম্প তার এই অবস্থানের পরিবর্তনের কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি সংঘাত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন, যা তিনি কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত আট মাসে ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে তিনি মার্কিন সহায়তার জন্য জেলেনস্কিকে তিরস্কার করে বলেছিলেন, ‘আপনার কাছে কোনো তুরুপের তাস নেই।‘ বসন্তে তিনি পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তার ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেন। এরপর গ্রীষ্মে আলাস্কায় তার জন্য বিছিয়ে দেন লাল গালিচা।
এবার ট্রাম্প যেন নতুন করে ইউক্রেনের পক্ষ নিচ্ছেন, যদিও কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই। তিনি তার পোস্টটি শেষ করেছেন এই বলে, ‘আমি উভয় দেশের মঙ্গল কামনা করি।‘
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও তার আগের অবস্থানকেই সমর্থন করে বলেন, ‘এই যুদ্ধ সামরিক উপায়ে শেষ হতে পারে না এবং এটি আলোচনার টেবিলে শেষ হবে।‘
আলাস্কার বৈঠকে ট্রাম্পও এমনটিই বলেছিলেন। এমনকি তিনি দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বৈঠক করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পুতিনের ওপর যুদ্ধবিরতির চাপ দিতেও তিনি রাজি হননি, কারণ তিনি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চেয়েছিলেন।
তবে মঙ্গলবার জাতিসংঘে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে সংক্ষেপে কথা বলেন। তিনি তার পুরোনো কৌশল থেকে সরে এসে পুতিনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, ‘রাশিয়া সাড়ে তিন বছর ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে এমন একটি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা একটি প্রকৃত সামরিক শক্তির জন্য এক সপ্তাহেরও কম সময়ে জেতা উচিত ছিল।‘ তিনি আরো বলেন, পুতিন এবং রাশিয়া মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে।
এদিকে, জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ট্রাম্পকে ‘গেম-চেঞ্জার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প এখন পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানেন।
তবে ট্রাম্পের এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ তিনি ইউক্রেনের জন্য শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি শুধু বলেছেন, ‘আমরা ন্যাটোকে অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাব, যেন তারা তাদের ইচ্ছামতো তা ব্যবহার করতে পারে।‘