পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে ফের জিহাদি হামলা, জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার নিচ্ছে। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) রাজধানী বামাকোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গোষ্ঠীটির সদস্যরা জ্বালানিবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে পুরো দেশ জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিবেশী আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া ও সেনেগাল থেকে ট্রাক আসতে না পারায় বামাকোতে জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দোকান, সুপারমার্কেট ও স্কুল রয়েছে বন্ধ। গণপরিবহন চলাচল করতে না পারায় মানুষ ঘরে থাকতেই বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও ইতালি তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকট কেবল নিরাপত্তাহীনতার নয়, বরং এটি এক গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতিচ্ছবি। ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া বিদ্রোহে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ২০২০ সালের পর। সামরিক জান্তা ক্ষমতায় আসার পরও প্রতিশ্রুত নির্বাচন বারবার পিছিয়েছে। রাজধানী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজন দেশটিকে আবারো নতুন অভ্যুত্থানের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, জান্তা সরকার রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারের সহায়তায় অভিযানে গিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জনগণের সরকারের ওপর আস্থা আরো কমে গেছে। এদিকে জেএনআইএম নতুন করে সংগঠিত হয়ে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শরিয়াভিত্তিক আইন কার্যকর করছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এসব এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীরা নিজেদের আদালত বসিয়ে পোশাক ও আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে।
বামাকোভিত্তিক কনরাড অ্যাডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের সাহেল প্রোগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিশ্লেষক উলফ ল্যাসিং বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটি খুব কঠিন হতে পারে। কারণ তখন দেশের মজুত জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। জ্বালানি শেষ হলে রাজধানী কার্যত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জেএনআইএমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার সম্মিলিত প্রভাবে মালি এখন কার্যত পতনের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।