মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ওবামা

ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ‘নিষ্ঠুর’, অভাব রয়েছে ‘শালীনতাবোধের’

প্রথমে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর সমালোচনা করেন ওবামা। ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী চিকিৎসক অ্যামি অ্যাকটন ও তার মাকে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন প্রচার চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় রয়েছেন রামাস্বামী। ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বিজ্ঞাপনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইনসহ অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান নেতারা বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্রদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা ও শালীনতাবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন বারাক ওবামা। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর এপি।

প্রথমে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর সমালোচনা করেন ওবামা। ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী চিকিৎসক অ্যামি অ্যাকটন ও তার মাকে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন প্রচার চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় রয়েছেন রামাস্বামী। ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বিজ্ঞাপনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইনসহ অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান নেতারা বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রামাস্বামীর সমালোচনা করে ওবামা বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোয় আমরা দেখেছি, এমন কোনো সীমা নেই যা তিনি অতিক্রম করবেন না, এমন কোনো নিচু স্তর নেই যেখানে তিনি নামবেন না।’

অ্যাকটনের শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি বেদনাদায়ক শৈশব এবং জীবনে যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, সেগুলো নিয়ে আবেগপূর্ণভাবে কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্যাতন, অবহেলা ও গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা।’

পরে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গিয়ে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমালোচকদের নিন্দা করেন সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। তার ইঙ্গিত, এল-সায়েদকে হেয় করতে নাম ও ধর্মবিশ্বাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডেট্রয়েটের একটি স্কুলের কানায় কানায় পূর্ণ জিমনেসিয়ামে ওবামা বলেন, ‘আমরা আগেও এমন ঘটনা দেখেছি। সেই ঘটনায় আমিও ছিলাম প্রধান চরিত্র। এর প্রমাণ হিসেবে আমার কাছে দীর্ঘ সংস্করণের জন্মসনদ রয়েছে।’

হোয়াইট হাউজ ছাড়ার প্রায় এক দশক পরও ৬৫ বছর বয়সী ওবামা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রচারক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গতকাল ফ্লোরিডায় আগাম ভোট দিয়েছেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি রামাস্বামীর বিজ্ঞাপনটির পক্ষেও কথা বলেন। বিজ্ঞাপনটি এরই মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘মা বলেছেন, অ্যামি অ্যাকটন একজন মিথ্যাবাদী এবং তিনি ভালো মানুষ নন। আর জানেন কী? আমার মনে হয় না, তার সম্পর্কে এর চেয়ে ভালো কোনো মূল্যায়ন পাওয়া সম্ভব।’

রামাস্বামীর প্রচারশিবিরের তৈরি ভিডিওতে অ্যাকটনের মা ডোনা আর্থারকে দেখা যায়। সেখানে তিনি অ্যাকটনকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছেন এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ওহাইও অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাকটন। শৈশবের গৃহহীনতা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা কখনো গোপন করেননি তিনি। সৎবাবা ক্লেডিথ আর্থারের বিরুদ্ধে অ্যাকটনকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর ডোনা আর্থার সন্তানদের ওপর অভিভাবকত্ব হারান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে নির্যাতনের ঘটনাগুলো ঘটেছিল। অভিযোগের পর থেকে পলাতক ছিল ক্লেডিথ আর্থার, ২০০৪ সালে তার মৃত্যু হয়। তবে বরাবরই স্বামীর পক্ষে ছিলেন ডোনা।

মিশিগানও এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য। সেখানে সিনেট ও গভর্নর পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দুই পদের নির্বাচন নিয়েই কথা বললেও ওবামা বিশেষভাবে সমর্থন জানান আবদুল এল-সায়েদকে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক এই কর্মকর্তা রিপাবলিকান ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন।

এল-সায়েদকে উগ্রপন্থী বলে আখ্যা দেয়ার জবাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আবদুলের মূল্যবোধ আমার মতোই।’

২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে ফেরেন ওবামা। ওই মেয়াদে তিনি সব প্রগতিশীল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় এল-সায়েদের সমালোচনার মুখে পড়েন। এ বিষয়ও স্বীকার করেন ওবামা।

এল-সায়েদ তখন লিখেছিলেন, ‘ওবামা সঠিক পছন্দ ছিলেন না—তবে ভুল পছন্দও ছিলেন না।’

গতকাল ওবামা বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, আবদুল আপনার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না। জানেন, আমার সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে আর কে একমত নন? মিশেল ওবামা। মিশেল ওবামা দিনে প্রায় পাঁচবার আমার সঙ্গে একমত হন না।’

ডেট্রয়েটের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাসিন্দা কৃষ্ণাঙ্গ। শহরটিতে ওবামার উপস্থিতি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন বাড়াতে পারে বলে আশা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও সেপ্টেম্বরে এল-সায়েদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট।

আরও