৪৩ দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নানা দফতর ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং নিরাপত্তা সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা এই খসড়া পর্যালোচনা করছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্যও দিচ্ছেন।

বিশ্বের ৪৩ দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম আমলের তুলনায় আরো বিস্তৃত হবে।

শনিবার (১৫ মার্চ) নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে একটি খসড়া তালিকা সুপারিশ করেছেন দেশটির কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ১১ দেশ নিয়ে 'লাল' তালিকা রয়েছে, যেখানকার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান, ভুটান, কিউবা, ইরান, লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন নিয়ে এ তালিকা।

অত্যন্ত সংবেদনশীল এ আলোচনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকাটি বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়েছে এবং এটি হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর সময় সম্ভবত পরিবর্তনগুলো আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নানা দফতর ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং নিরাপত্তা সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা এই খসড়া পর্যালোচনা করছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্যও দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনটি বলছে, খসড়া সুপারিশে ১০ দেশ নিয়ে 'কমলা' তালিকাও রয়েছে। এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সীমিত করা হবে, কিন্তু বন্ধ করা হবে না। অর্থাৎ ধনী ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও অভিবাসী বা পর্যটন ভিসায় ভ্রমণ অনুমতি মিলবে না।

এ ছাড়া কমলা তালিকায় থাকা দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা পেতে অবশ্যই সরাসরি সাক্ষাৎকারের সম্মুখীন হতে হবে। এ তালিকায় রয়েছে বেলারুশ, ইরিত্রিয়া, হাইতি, লাওস, মায়ানমার, পাকিস্তান, রাশিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান এবং তুর্কমেনিস্তান।

তালিকার তৃতীয় ধাপে রয়েছে ২২টি দেশ। এসব দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা আংশিকভাবে স্থগিত করা হতে পারে। তবে দেশগুলো যদি ৬০ দিনের মধ্যে ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ঘাটতি দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

আরও