যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তরিক ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশেরই উচিত নিজেদের সম্পর্ক আরো জোরদার করা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদা... তবে আন্তরিক, গভীর ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দুই দেশ একে অপরকে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারবে।
হোয়াইট হাউজে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। করমর্দন, উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং রোজ গার্ডেনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানানো হয় তাকে।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরস্পরকে সম্মান করি এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখি। তিনি আরো বলেন, আমাদের আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত এবং দুই দেশের স্বার্থ গভীরভাবে সংযুক্ত।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বিশ্বের প্রতিটি সমস্যা সমাধান নাও করতে পারে, তবে এটি ছাড়া বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান করাই কঠিন হবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অভিনন্দন জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।
শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির আওতায় এক লাখ মার্কিন তরুণকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির আওতায় এক লাখ তরুণ মার্কিনিকে তারা চীন সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং একসঙ্গে উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান শি। পাশাপাশি বন্ধুত্বের স্বারক হিসেবে দেয়া উপহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আটলান্টা চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা আমেরিকানদের সঙ্গে দেখা করবে। পান্ডা উপহার দেয়া দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে চীনের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডি পেং লি ইউয়ানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। সেখানে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী ও মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। মার্কিন শিশুরা এ সময় শি জিনপিং ও পেং লি ইউয়ানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। দুই পাশে লাল গালিচার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের গার্ড অব অনার দেয়া হয়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে সামরিক ব্যান্ড। সেই সঙ্গে ২১ বার তোপধ্বনি এবং যুদ্ধবিমান উড়িয়ে অভিবাদনও জানানো হয়।