নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে মিন অং হ্লাইং শীর্ষ জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
শপথ নেয়ার পর গতকাল রাজধানী নেপিদোতে অভিষেক ভাষণে তিনি বলেন, মিয়ানমার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশটির সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন।
হ্লাইংয়ের ৩০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যই অবসরপ্রাপ্ত বা বর্তমান সামরিক কর্মকর্তা। তাদের অনেকেই ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর গঠিত জান্তা সরকারে ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গতকাল শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী নেপিদোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। শপথের আগে কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়। তাদের অনেকেই অং সান সু চির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে চাকরি ছেড়ে দেয়া সরকারি কর্মচারীদের আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হ্লাইং ১৮ মিনিটের অভিষেক ভাষণে দেশের চলমান গৃহযুদ্ধ মোকাবেলার কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি। ভাষণের শুরুতেই তিনি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সমালোচনা করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে যে যুক্তিতে তিনি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিলেন, সেই একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনকে তিনি বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন।
মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনীতির পতনের প্রেক্ষাপটে তিনি কেবল নীতিমালা পর্যালোচনা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনে পুরনো জান্তা-ঘনিষ্ঠদের আধিপত্য এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভাষণ—দুটিই ইঙ্গিত দেয়, মিয়ানমারে বাস্তব কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।