ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে সোমবার গৃহবন্দি করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল উল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মামলাকে ‘উইচ হান্ট’ বা ষড়যন্ত্রমূলক দমন অভিযান বলে আখ্যা দিয়েছেন। সে সঙ্গে এর জেরে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা বুধবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। খবর রয়টার্স।
বলসোনারোর বিরুদ্ধে গৃহবন্দির নির্দেশ জারি করেন গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে ডি মোরাইস। আদেশে বলা হয়েছে, বলসোনারো আদালতের পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছেন এবং ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ আহ্বান করার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছেন। বিচারপতি মোরাইস বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার অন্ধ হলেও মূর্খ নয়।‘
বলসোনারো এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারের মুখোমুখি। সেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি সহযোগীদের নিয়ে সহিংস উপায়ে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তিনি জনতাকে উসকানোর মাধ্যমে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্রাসিলিয়ায় দাঙ্গার সৃষ্টি করেন।
সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক গৃহবন্দি হওয়ার পর নিজ বাসভবনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন বলসোনারো। ছবি-রয়টার্স
এদিকে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বিচারপতি মোরাইস ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধীদলের কণ্ঠ রোধ করছেন এবং গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছেন। তবে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ব্রাজিলের পণ্যের উপর আরো শুল্ক আরোপ করা হবে।
মোরাইসের আদেশ অনুযায়ী, বলসোনারো এখন থেকে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কেবলমাত্র তার আইনজীবী ও আদালতের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
বলসোনারোর মুখপাত্র জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ব্রাসিলিয়ায় তার বাসভবনে পুলিশ তাকে গৃহবন্দি করে এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করে। বলসোনারোর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং দাবি করেন, বলসোনারো কোনো আদালতের আদেশ ভাঙেননি।
অন্যদিকে, বলসোনারোর রাজনৈতিক মিত্রদের মতে, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কৌশল ব্রাজিলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা বলসোনারোর জন্য নেতিবাচক। তবে, রোববার বলসোনারো সমর্থকদের বেশ বড় কয়েকটি সমাবেশ দেখা গেছে। বলসোনারোর ছেলে, সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এক বিক্ষোভে তার বাবার ফোনকল সম্প্রচার করেন। একে অনেকেই আদালতের আদেশ লঙ্ঘন বলেই দেখছেন।