সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, ইয়েমেনে তীব্র হচ্ছে সংঘাত

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। গতকাল রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, তারা সাদা, হোদেইদা, জাওফ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনে ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাগুলোর একটি বুধবার এবং অন্যটি মঙ্গলবার হয়েছে। তবে কোন হামলাটি কোন দিনে হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। গতকাল রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, তারা সাদা, হোদেইদা, জাওফ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ভোরে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কায়রো থেকে একটি ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের কাছে আঘাত হানে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য এ বিমানবন্দর প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইয়েমেনের লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রফতানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রণালি ও মোচা শহরের আশপাশে কৌশলগত এলাকা পুনর্দখলে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। এসব এলাকা গত মাসে হুথিরা দখল করেছিল। তবে সরকারি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা কতটা ধরে রাখা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে ১২ বছর ধরে চলা যুদ্ধ আবারো তীব্র হয়েছে। এই যুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গতকাল জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দফার লড়াই শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২ লাখের বেশি হয়েছে।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘মানুষ জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে, কিন্তু যাওয়ার মতো নিরাপদ কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না।’ খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন বাড়তে থাকায় তিনি আরো অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারই খাদ্যসংকটে রয়েছে।

গতকাল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তারা রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। জোটটি বলেছে, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী প্লাটফর্মটি তারা নজরদারিতে রেখেছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে।

আরও