আমদানীকৃত পণ্যের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাবদ প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১৩৪ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল। এখন সুপ্রিম কোর্টে রায়ের সেই শুল্ক বাতিল হওয়ায় শুরু হয়েছে নতুন আইনি জটিলতা। প্রশ্ন উঠেছে, কোন প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে পরিশোধ করা শুল্ক ফেরত দেয়া হবে। খবর সিএনএন।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গতকাল এক রায়ে জানিয়েছে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার ওপর ভর করে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত বছর বিশ্বের প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক বাড়ান ট্রাম্প। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো শত বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক পরিশোধ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট যদি শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তবে আদায় করা অর্থ ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত দেয়া হবে সে বিষয়ে প্রশাসন বা বিচারকরা কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
রায়ে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারক ব্রেট ক্যাভানফ লিখেছেন, ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়া হলে মার্কিন ট্রেজারির ওপর তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমদানিকারকদের কাছ থেকে যে অর্থ সংগ্রহ দেয়া হয়েছে, তা ফেরত দেয়া উচিত কি না এবং দিলে কীভাবে সেই বিষয়ে আদালত আজ কিছুই বলছে না। তবে মৌখিক শুনানিতে স্বীকার করা হয়েছে, প্রক্রিয়াটি সম্ভবত জটিল বা বিশৃঙ্খল হবে।’
রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও প্রশ্ন তোলেন, আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে কি না বিচারকরা কেন তা উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে ২-৫ বছর মামলা চলতে পারে বলেও জানান তিনি। অর্থাৎ, শুল্ক বাবদ পরিশোধ করা অর্থ ফেরত পেতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
আইনজীবী ও বেকার বটসের অংশীদার টেড পজনার বলেন, ‘মামলাটি কখনোই শুল্ক ফেরত দেয়া সংক্রান্ত ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট যে এ প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি ঠিক করে দেবে না, সেটাই স্বাভাবিক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছি। এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যেকোনো ফেরত প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত নিখুঁত নথিপত্র জমা দিতে হবে। আপাতত কোম্পানি এমনকি রফতানিকারক দেশগুলোও অনিশ্চয়তায় রয়েছে।’
গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমদানিকারকদের ফেরত দেয়ার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এক বছরের বেশি সময় নিতে পারে।’
তবে এ বিষয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। স্কট বেসেন্ট মনে করেন, সরকার অর্থ ফেরত দিলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের সুবিধা পাবে। অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে আগাম মামলা করা কস্টকোর মতো প্রতিষ্ঠান কি সেই অর্থের কোনো অংশ গ্রাহকদের ফেরত দেবে? কারণ তারা এরই মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য নিয়েছে।
ডালাসের ইকোনমিক ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমার ধারণা, মার্কিন জনগণ সেই অর্থ পাবে না।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে মার্কিন সরকারের শুল্ক ফেরত দেয়া এ প্রথম নয়। ১৯৯৮ সালের এক রায়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ৭৩ কোটি ডলার শুল্ক ফেরত দেয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই বছর সময় লেগেছিল।
ওলফ রিসার্চের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টেফানি রথ বলেন, ‘এর ফলে কোম্পানিগুলো দাম কমাতে শুরু করবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। চার মাস আগে যে স্নিকার্স কিনেছেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ শুল্কের জন্য ওয়ালমার্ট আপনাকে চেক পাঠাবে না।’
অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর দমে না গিয়ে বিকল্প পথে হাঁটছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইনি জটিলতায় বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে আগামী মঙ্গলবার থেকে ১৫০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাতে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে অবৈধ ঘোষিত ‘আইইইপিএ’ আইনের অধীনে থাকা ১০-৫০ শতাংশ শুল্কের শূন্যস্থান পূরণ হবে।