নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক

মাদুরো ইস্যুতে উত্তপ্ত বিতর্ক: মার্কিন অভিযানকে ‘আইনহীনতা’ বলল রাশিয়া

‘জাতিসংঘ যদি একজন অবৈধ মাদক-সন্ত্রাসীকে একজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের সমান মর্যাদা ও বৈধতা দেয়, তবে এটি কেমন সংগঠন?’

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া এই অভিযানকে ‘আইনহীনতার যুগে ফিরে যাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের প্যানেলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পররাষ্ট্রনীতির এ পদ্ধতিগুলো চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন কমান্ডো অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনায় আজ (৫ জানুয়ারি) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক চলছে। মার্কিন অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বনেতা এবং কূটনীতিকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। খবর এপি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে ৩ জানুয়ারির এই মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে এই অভিযানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।‘ গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘গুরুতর’ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে, তার একটি বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকতে পারে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া এই অভিযানকে ‘আইনহীনতার যুগে ফিরে যাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের প্যানেলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পররাষ্ট্রনীতির এ পদ্ধতিগুলো চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। নেবেনজিয়া বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কোনো সর্বোচ্চ বিচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে দিতে পারি না, যে একাই ঠিক করবে কোন দেশে হামলা করবে, কাকে অপরাধী ঘোষণা করবে এবং আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব ও অনাক্রমণ নীতিকে উপেক্ষা করে শাস্তি কার্যকর করবে।‘

সমালোচনার জবাবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এ অভিযানকে একটি ন্যায়সংগত ‘সার্জিক্যাল ল এনফোর্সমেন্ট অপারেশন’ বা নিখুঁত আইন প্রয়োগকারী অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জাতিসংঘ যদি একজন অবৈধ মাদক-সন্ত্রাসীকে একজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের সমান মর্যাদা ও বৈধতা দেয়, তবে এটি কেমন সংগঠন?’

জরুরি বৈঠকে কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূত লেওনোর সালাবাতা বলেন, ভেনিজুয়েলায় এই অভিযান অতীতের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আঞ্চলিক হস্তক্ষেপের’ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কলম্বিয়া এই বৈঠকের আহ্বানকারী দেশ। সালাবাতা বলেন, ‘সহিংসতা ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা বা প্রসার সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্যও গণতন্ত্রকে বিসর্জন দেয়া যায় না।‘

আরও