ইসরায়েলের বোমায় ধ্বংস সিরিয়ার স্থাপনায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান

আইএইএ এই তিনটি স্থানের মধ্যে একটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের কণা’ খুঁজে পেয়েছে। এই কণাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরেনিয়ামগুলো মানুষের তৈরি, অর্থাৎ রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণের ফল।

জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (আইএইএ) সিরিয়ায় ২০০৭ সালে ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি স্থাপনায় ইউরেনিয়ামের কণা খুঁজে পেয়েছে। আইএইএ দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করে আসছিল যে, এখানে একটি গোপন পারমাণবিক চুল্লি ছিল। সোমবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পেশ করা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

সাবেক সিরীয় নেতা বাশার আল-আসাদের সরকার সে সময় দাবি করেছিল, দেইর আল-জোরের সেই স্থান ছিল একটি সাধারণ সামরিক ঘাঁটি।

২০১১ সালে আইএইএ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, ভবনটি খুব সম্ভবত একটি গোপন পারমাণবিক চুল্লি ছিল— যা দামাস্কাসের পক্ষ থেকেই সংস্থাটিকে জানানো উচিত ছিল। এরপর থেকে আইএইএ একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। গত বছর নতুন করে তদন্ত শুরু হলে তারা তিনটি অজ্ঞাত স্থান থেকে পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। স্থানগুলো দেইর আল-জোরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।

রয়টার্স কর্তৃক প্রাপ্ত গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএইএ এই তিনটি স্থানের মধ্যে একটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের কণা’ খুঁজে পেয়েছে। এই কণাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরেনিয়ামগুলো মানুষের তৈরি, অর্থাৎ রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণের ফল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রাকৃতিক’ শব্দটি নির্দেশ করে যে ইউরেনিয়ামটি সমৃদ্ধ করা হয়নি। তবে এই কণাগুলো কীসের ইঙ্গিত বহন করছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান সিরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাদের কাছে এমন ইউরেনিয়াম কণার উপস্থিতি ব্যাখ্যা করার মতো কোনো তথ্য নেই। তবে চলতি বছরের জুন মাসে ইসলামপন্থী সরকার আরো পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ করতে আইএইএকে ওই স্থানে প্রবেশাধিকার দিয়েছে।

আরও