শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে গতকাল শুক্রবার ধসে পড়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের নির্মাণাধীন ৩৩ তলা ভবন। ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা ওই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের এখনো জীবিত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাদের বাঁচাতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলছে, ভূমিকম্প ও এর আফটারশকের প্রভাবে গতকাল দুপুরে ধসে পড়ে বিশাল ভবনটি। সে সময়ই জানা যায়, ওই ভবনে প্রায় অর্ধশত মানুষ ছিলেন যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
ব্যাংকক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের পরিচালক সুরিয়ান রাভিওয়ান জানান, আজ শনিবার পর্যন্ত ওই স্তূপ থেকে ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ৪৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ওই ধ্বংসস্তূপের নিচে ১৫ জনের জীবনের চিহ্ন পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বাঁচাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য পথ বানাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সুরিয়ান আরো জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ারা তিন থেকে সাত জনের করে দুই তিনটি দলে রয়েছে। প্রায় তিন মিটার গভীরে হওয়ায় তাদের কাছে এখনো পানি ও খাদ্য সরবরাহ করা যায়নি। তাদের উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেননা এর মধ্যেই তাদের খাবার এবং পানির অভাব দেখা দিতে পারে। তাছাড়া উদ্ধার কাজে দেরি হলে শক এবং মৃত্যু ঝুঁকিও রয়েছে। তাই আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছি।
ধসে পড়া ভবনটি জাতীয় নিরীক্ষা অফিসের। ২০২০ সালে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন বাথ ব্যয়ের ভবনটির কাজ শুরু হয়েছিল এবং এর কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল।
ভূমিকম্পের সময় ভবন ধসে পড়ার ঘটনাটি গতকালই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ছে। আশপাশে থাকা স্থানীয়রা মোবাইলে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও নিচ্ছেন।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতল ভবনের ওপরে সুইমিং পুলের পানি সেখান থেকে ছিটকে ভবনের বাইরে পড়ছে। ঘটনাটি কিছুটা সুনামির সময় পানির অস্থিরতার মতোই।
আরো বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। এর কোনোটিতে ভবনকে অস্বাভাবিকভাবে দুলতে দেখা গেছে, কোনোটিতে আবার ভবনের ছাদ থেকে আস্তরণ খসে পড়তে কিংবা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমনটা দেখা গেছে।
বেঁচে যাওয়া একজন শ্রমিক অ্যাডিসর্ন কামফাসর্ন। ভূমিকম্পের সময় তিনি ছয়তলা থেকে নিচে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন। হঠাৎ কম্পন অনুভব করলে সিঁড়ির দিকে তাকান এবং একটি ক্রেন কাঁপতে দেখেন। তিনি বলেন, বুঝতে পারছিলাম, খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। দৌড় দিলাম, এক মিনিটের মধ্যে ভবনটি ধসে পড়ল। সবখানে ধোঁয়া, সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল। নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না, কোনো মাস্ক ছিল না।
ভূমিকম্পের সময় নকুল খেমুথা নামে আরেক শ্রমিক ওই ভবনের পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ ধাক্কা অনুভব করলে তিনি দেখেন, পুরো ভবন যেন ডুবে যাচ্ছে, অনেকগুলো গর্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই চিৎকার করে একে অপরের হাত ধরতে আর দৌড়াতে বলি।
এদিকে শনিবার সকালে ধসে পড়া স্থানটি পরিদর্শন করেছেন ব্যাংককের গভর্নর। তিনি জানান, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধারকারীদের জন্য পথ তৈরি করা হচ্ছে। ক্রেন ট্রাকগুলো ধ্বংসাবশেষ ও কংক্রিটের টুকরোগুলো তুলে আনবে। অনেকেই এর নিচে আটকা পড়ে আছেন।