সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই আজ আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক আলিসা পাভিয়ার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ইরানকে কোণঠাসা করতে চাইছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রক্সি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় ইরান এখন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিতে ছাড় আদায় করতে চায়।

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর আজ শুক্রবার ওমানে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এপি।

এর আগে আলোচনায় তুরস্কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ওমানেই সরাসরি আলোচনায় ফিরছে দুই দেশ।

গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইরান। ওই যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত অনেক সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস হয় বলে দাবি করা হয়। একই সময় ইসরায়েলের হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনার পর এটিই হতে যাচ্ছে দুই দেশের কর্মকর্তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক। এ বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত’ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অবশ্য দুই দেশ এখনও নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে ভবিষ্যতে বিস্তৃত আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিত্যাগ করবে। ওয়াশিংটনের মতে, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং নিজ নাগরিকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

ইরান অবশ্য বলছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হবে। এই মতপার্থক্য আদৌ মিটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ওয়াশিংটনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, গত মাসে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং দশ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে চাইলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে শুধু সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের নীতিগত পরিবর্তন বা সরকার পতন সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কাছে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ থামানোর চেষ্টা করেছে ইরান।

আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক আলিসা পাভিয়ার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ইরানকে কোণঠাসা করতে চাইছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রক্সি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় ইরান এখন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিতে ছাড় আদায় করতে চায়।

আরও