ভুয়া থিঙ্কট্যাঙ্ক বানিয়ে এআই চ্যাটবটে ইসরায়েলের অপপ্রচার

হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি নামে নিবন্ধিত এই থিঙ্কট্যাঙ্কের বাস্তব কোনো আইনি অস্তিত্ব, কার্যালয় বা স্থায়ী কর্মী নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী নিউইয়র্কের মিডিয়া সংস্থা পিরো ইনক এই সাইটটিকে ইসরায়েলি সরকারি বিজ্ঞাপন সংস্থা লাপামের জন্য প্রচারমাধ্যম হিসেবে মার্কিন বিচার বিভাগে নথিভুক্ত করে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটগুলোকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে ভুয়া গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে ইসরায়েল। মাত্র নয় দিনে প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি শব্দের তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

এআই প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটি, ক্লাউড, পারপ্লেক্সিটি ও জেমিনির সার্চ ফলাফলে ইসরায়েলি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার লক্ষ্যেই ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়। এতে গাজায় গণহত্যা, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অনাহারের মতো বিষয়গুলোকে নিরপেক্ষ গবেষণার ছদ্মবেশে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি নামে নিবন্ধিত এই থিঙ্কট্যাঙ্কের বাস্তব কোনো আইনি অস্তিত্ব, কার্যালয় বা স্থায়ী কর্মী নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী নিউইয়র্কের মিডিয়া সংস্থা পিরো ইনক এই সাইটটিকে ইসরায়েলি সরকারি বিজ্ঞাপন সংস্থা লাপামের জন্য প্রচারমাধ্যম হিসেবে মার্কিন বিচার বিভাগে নথিভুক্ত করে।

ইসরায়েল সরকার ইউরোপীয় বিজ্ঞাপন সংস্থা হাভাস মিডিয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার অর্থ খরচ করে এই অভিযান চালাচ্ছে। ৬-১৪ আগস্টের মধ্যে সাইটটি ১২৪টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনামগুলো চ্যাটবটে ব্যবহারকারীদের অনুসন্ধানের মতো করে লেখা। কেবল ১২ ও ১৩ আগস্টেই তারা ৩ লাখ ৫৪ হাজার শব্দ সম্বলিত ৭৩টি রিপোর্ট আপলোড করে।

প্রতিবেদনগুলোয় আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে উদ্ধৃত করা হলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলবিরোধী সমালোচনাগুলো ঢেকে দেয়া। কোয়ান্সি ইনস্টিটিউটের গবেষক নিক ক্লিভল্যান্ড-স্টাউট জানান, ওয়েবসাইটটি দেখতে অ্যাকাডেমিক মনে হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়লে এগুলোর অসংগতি ধরা পড়ে।

মূলত চ্যাটবটের প্রাথমিক তথ্যভাণ্ডার বা ডাটাসেটে নিজেদের প্রস্তুত করা প্রোপাগান্ডা ঢুকিয়ে দেয়াই ছিল তাদের আসল কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় এমন উদ্যোগ নেয়া হলেও ইসরায়েলি কর্তাব্যক্তিদের বড় অংশই মনে করছেন এ বিপুল অর্থ সম্পূর্ণ অপচয় হয়েছে।

আরও