বাহরাইন-কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এছাড়া ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

আজ এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি। একই সঙ্গে অভিযানের সময় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে তারা।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলার জেরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করে ও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে ওয়াশিংটন।

হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের অভিযানে আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি নৌযান, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

সেন্টকমের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নৌযানে হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে প্রকাশ্য আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও জোরজবরদস্তির যুগ শেষ। ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।

এদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বেসামরিক নিহতের ঘটনা ঘটেনি; তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আরও