নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের স্পষ্টতা না পেলে চুক্তি নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বার্তা

ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার নিচে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ৪ শতাংশের অনেক বেশি।

ইরান দীর্ঘমেয়াদি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে চায়। কারণ এসব নিষেধাজ্ঞা গত কয়েক বছরে দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তেহরান এখন চাইছে, ওয়াশিংটন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করুক তারা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেয়ার আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাব পাঠানোর কয়েক দিন পর সোমবার (২ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই মন্তব্য করেন। তবে বিভিন্ন অপ্রকাশিত সূত্রের মতে, তেহরান ওই প্রস্তাবকে ‘আলোচনা-অযোগ্য’ মনে করছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। খবর আল জাজিরা।

গত সাত সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে—ইরানের কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করা; অন্যদিকে ইরান দীর্ঘমেয়াদি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে চায়। কারণ এসব নিষেধাজ্ঞা গত কয়েক বছরে দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তেহরান এখন চাইছে, ওয়াশিংটন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করুক তারা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আগে থেকেই যে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, বিষয়টি তারই প্রতিফলন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বাঘাই বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত অবসান কীভাবে ঘটবে, কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়িত হবে—এই বিষয়ে যথাযথ নিশ্চয়তা থাকা জরুরি। এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়ে পর্যাপ্ত স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।‘ তিনি আরো বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাক। এটি তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’।

জাতিসংঘের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার নিচে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ৪ শতাংশের অনেক বেশি। বাঘাই ওই প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, এটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং কিছু পশ্চিমা দেশ জাতিসংঘকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দিচ্ছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তেহরানও প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং হোয়াইট হাউস এটিকে ইরানের ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ বললেও তেহরান জানিয়েছে, তারা এখনো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। বাঘাই বলেন, ‘কোনো একটি প্রস্তাব পাওয়া মানেই সেটিকে গ্রহণ করা নয়—এমনকি সেটি গ্রহণযোগ্য বলেও ধরে নেয়া যায় না।‘

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বহুপাক্ষিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে বেরিয়ে আসার পর থেকে উভয় পক্ষ নতুন সমঝোতার খোঁজে রয়েছে। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

আরও