রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত ১২, দুজন বাংলাদেশী

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশী এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জনের বেশি। গতকালের এ ঘটনাকে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স।

চলতি গ্রীষ্মে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির শুরু করা অভিযানে এক সপ্তাহে এটি বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশী এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসায় সেখানে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি। সৌদি আরবের হুমকি সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও কোনো সংকেত দেয়নি। চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগের দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। এছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়েতে পার্ক করে রাখা সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাণঘাতী এসব হামলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ইয়েমেনের সরকারকে হুথিদের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে সহায়তা করতে সৌদি আরবও তাদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান চালাচ্ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় শত শত হামলা চালানো হয়েছে। হুথিরা বলেছে, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের শহরটিকে সেবা দেয়া বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে হুথিদের গণমাধ্যম কার্যালয়ের প্রধান দাবি করেন, গোষ্ঠীটি ‘রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে’। হুথিরা বলেছে, উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলা উচিত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার গত সোমবার হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের অঞ্চল ঘোষণা করেছে গোষ্ঠীটি।

হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা।

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব। সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে আমরা মাত্রই জানতে পেরেছি, তাই সিদ্ধান্ত নেব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব হামলা ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা’ প্রদর্শন করে।

গতকাল বিমানবন্দরে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি একটি বিস্ফোরণ ঘটতে দেখেছেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে একাধিক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।

আহত এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের বাইরে আকাশের ওপর দিয়ে কিছু একটা উড়ে যেতে দেখেন তিনি। এরপর বের হওয়া গেটের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে হুথিদের হটানোর লক্ষ্যে আরব দেশগুলোর একটি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধে যোগ দেয় সৌদি আরব। এর আগের বছর সানা দখল করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছিল হুথিরা।

যুদ্ধটি রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থায় পৌঁছায়। সংঘাত ও দুর্ভিক্ষে ইয়েমেনের কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন। ২০২২ সালে হুথিদের সঙ্গে একটি চুক্তি করে সৌদি আরব, যার মাধ্যমে সংঘাত স্থগিত হয়।

তবে চলতি গ্রীষ্মে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এ ভূখণ্ড পুনর্দখলের লক্ষ্যে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার চলতি সপ্তাহে নতুন অভিযান শুরু করেছে। এতে এখন পর্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে, হুথিরা দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ অবরোধ করে রেখেছে।

আরও