হামাসের হামলার আগে সতর্ক করেছিল আরব আমিরাত, ‘ততটা গুরুত্ব দেননি’ নেতানিয়াহু

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার ১০ দিন আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি জানান, গাজায় তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন

ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক দিন আগে ‘হামাস বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তবে বিষয়টিকে ততটা গুরুত্বের সঙ্গে নেননি নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার ১০ দিন আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি জানান, গাজায় তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

বিন জায়েদ সতর্ক করে বলেন, ওই অভিযান ব্যাপক রক্তপাতের কারণ হতে পারে। একইসঙ্গে এটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এবং ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব ও মুসলিম-প্রধান দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য করা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’কে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে হারেৎজের দাবি, নেতানিয়াহু বিষয়টি ‘তুলনামূলক শান্তভাবে’ নেন। তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত। নেতানিয়াহু আরো মনে করেছিলেন, সম্ভাব্য হামলা গাজা নয়, বরং অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আসার সম্ভাবনাই বেশি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং আরো ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। এর পর ইসরায়েলি হামলায় গাজায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। প্রায় পুরো অঞ্চল ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েল।

তবে হারেৎজের প্রতিবেদনকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। কার্যালয়টি জানিয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কোনো কথা হয়নি এবং তার কাছ থেকে কোনো সতর্কবার্তাও পাননি নেতানিয়াহু।

গতকাল নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও অস্বীকার করে, আমিরাতের পক্ষ থেকে তাকে কোনো সতর্কতা দেয়া হয়েছিল। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকলে তা দুই দেশের গোয়েন্দা চ্যানেলের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়েছে।’

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দুই নেতার কথোপকথন নিয়ে ‘জল্পনা-কল্পনা’ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় বলেছে, পাঁচ বছর আগে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে ‘খোলামেলা ও সরাসরি যোগাযোগের পথ’ চালু রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক সব গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।

এদিকে ৭ অক্টোবরের হামলার আগে কী ঘটেছিল, তা তদন্তে সরকারি কমিশন গঠনের দাবিও প্রত্যাখ্যান করে আসছেন নেতানিয়াহু।

আগামী মাসে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে ৭ অক্টোবরের হামলার সময় নেতানিয়াহুর ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত সাবেক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, হামলার আগে দেয়া কয়েক ডজন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) দায়িত্ব পালনের জন্য অযোগ্য।’

নেতানিয়াহুর আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী নাফতালি বেনেট বলেন, ‘হাজার হাজার ইসরায়েলির মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া এই ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুই ব্যক্তিগত ও সরাসরি দায়ী।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের গাজা অভিযান শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আরও