চীন সফরে তাইওয়ানের বিরোধী নেতা, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

কেএমটির চেয়ারম্যান চেং লি-উন জানান, শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণ ‘সানন্দে গ্রহণ’ করেছেন তিনি। এ সফরের মাধ্যমে ‘শান্তির সেতুবন্ধন’ তৈরি করতে চান। ছয় দিনের সফরে সাংহাই, নানজিং ও বেইজিং সফর করবেন চেং লি-উন

চীন সফরে গেছেন তাইওয়ানের প্রধান বিরোধীদল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর নেতা চেং লি-উন। মঙ্গলবার সকালে বেইজিং পৌঁছান তিনি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে তার। খবর বিবিসি।

কেএমটির চেয়ারম্যান চেং লি-উন জানান, শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণ ‘সানন্দে গ্রহণ’ করেছেন তিনি। এ সফরের মাধ্যমে ‘শান্তির সেতুবন্ধন’ তৈরি করতে চান। ছয় দিনের এ সফরে সাংহাই, নানজিং ও বেইজিং সফর করবেন চেং লি-উন। এক দশকের মধ্যে তিনিই প্রথম কেএমটি প্রধান হিসেবে চীন সফর করছেন।

২০১৬ সালে তাইওয়ানে ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) সাই ইং-ওয়েন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে বেইজিং তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করে দেয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ‘এক চীন’ নীতিকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ সাই। অন্যদিকে, চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে একীভূত করার হুমকিও দিয়ে আসছে।

সরকার চেংয়ের সফর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই। সেইসঙ্গে চেংয়ের সফরের সমালোচনা করে তাকে বেইজিংয়ের প্রতি ‘নতিস্বীকারকারী’ বলে উল্লেখ করেছে ক্ষমতাসীন ডিপিপি। দলটির অভিযোগ, তার সফর পুরোপুরি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাইওয়ানের আস্থায় কিছুটা ভাটা পড়েছে, যার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত দ্বৈত অবস্থান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ভূমিকা রেখেছে। চেং এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চান, যিনি চীন-তাইওয়ান সম্পর্ক উন্নত করতে এবং উত্তেজনা কমাতে সক্ষম।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন দ্বীপটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প বলেছেন, চীনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার বিনিময়ে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ পরিশোধ করা উচিত। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল তাইপেই সফর করে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট পাসের আহ্বান জানায়, যা বর্তমানে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত সংসদে আটকে আছে।

আরও