টানা ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর দুই দেশের গণমাধ্যমই যুদ্ধবিরতি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে যুদ্ধবিরতিসহ ট্রাম্প প্রশাসনের সকল বার্তাকেই মিথ্যা ও ধোঁকা বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী।
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মাহদি বলেন— ‘যুদ্ধ থামানো বা শেষ করার আহ্বান, যুদ্ধবিরতি, হামলার জবাবে প্রতিক্রিয়া না দেখানো— ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের যত বার্তা আসছে, সবই ধোঁকা। এগুলো আসলে চমক তৈরি ও ভুয়া শান্তির বার্তা দিয়ে সংঘাত আরো বাড়ানোর কৌশলমাত্র। আমরা যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে না কার্যক্রম পরিচালনা না করি তাহলে কঠোরভাবে আক্রান্ত হব।
মাহদি মোহাম্মদী। ছবি-এক্স
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক চললে আমি ইসরায়েল ও ইরান—দুই দেশকেই অভিনন্দন জানাতে চাই তাদের সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার জন্য। এই যুদ্ধে অবসান ঘটানো উচিত, এবং একে ১২ দিনের যুদ্ধ বলেই ডাকা উচিত।‘
এর ঠিক কিছু সময় পর, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি শিরোনামে জানায়, ইসরায়েল অধিকৃত এলাকায় ইরানের চার দফা হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক লাইনের বার্তায় জানায়, যুদ্ধবিরতি এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। তিনি আরো বলেন, ‘তবে ইসরায়েল যদি তেহরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর ৪টার মধ্যে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের অবৈধ হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমরা আর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখি না।‘
সিএনএন বলছে, ইরান ও ইসরায়েলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন এবং কী শর্তে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা আসেনি। এ নিয়ে কোনো দেশই এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।