ট্রাম্প-জেলেনস্কি দ্বন্দ্ব

রাশিয়ার ওপর একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে ইউক্রেন

ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে বলেছেন, এ মুহূর্তে এসব ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কংগ্রেসকেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।

রাশিয়ার ওপর আরোপের অপেক্ষায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই সেগুলো থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বিরোধও ক্রমেই প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটন যুদ্ধক্ষেত্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করা, অস্ত্র সহায়তা সীমিত করা এবং মস্কোর সঙ্গে আরো অর্থনৈতিক চুক্তিতে যাওয়ার পথ বেছে নিতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন কিয়েভে বাড়ছে।

হোয়াইট হাউজ এক নির্বাহী আদেশে জানায়, রাশিয়াসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক থেকে সাময়িক প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প। গত মাসে তার স্বাক্ষর করা আইনের অধীনে এসব ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে রুশ পণ্য আমদানিতে শুল্ক এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে বলেছেন, এ মুহূর্তে এসব ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কংগ্রেসকেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ প্রয়োজন মনে না করা পর্যন্ত এ অব্যাহতি বহাল থাকবে।

রাশিয়ার ২০২২ সালে শুরু করা ইউক্রেন আক্রমণের জন্য মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতেই আইনটি করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পকে মস্কোর প্রতি তুলনামূলক নমনীয় হতে দেখা যাচ্ছে। বিপরীতে জেলেনস্কির সমালোচনা করে আসছেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও ইঙ্গিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আরো উৎসাহিত করবে।’ তার ভাষায়, আগ্রাসীর ওপর চাপ কমানো এবং পুতিনকে আর্থিক সুবিধা দেয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ারই সুযোগ করে দিচ্ছে।

জেলেনস্কি জানান, শুক্রবারও ইউক্রেনের ১৫টির বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কিন্তু এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না যাতে পুতিন অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।’

নতুন আইনে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল। একইভাবে আইন কার্যকর হওয়ার ৩০ দিন পরও যারা জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনবে কিংবা মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সবচেয়ে বেশি সহায়তাকারী পাঁচ দেশের মধ্যে থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া যেত।

আরও