আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্প বন্ধ করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার গত বছর ঘোষণা দিয়েছিল, সামরিক ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা বৈদেশিক সহায়তার বাজেট কমিয়ে দেবে

আফ্রিকার দেশগুলোয় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বা ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। গ্লোবাল হেলথ ওয়ার্কফোর্স প্রোগ্রাম (জিএইচডব্লিউপি) নামের প্রকল্পটি মূলত আফ্রিকা মহাদেশের ছয়টি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করত। ব্রিটিশ সরকারের এ আকস্মিক সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী মহামারী প্রতিরোধের সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) নিশ্চিত করেছে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ কার্যক্রমটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ঘানা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, মালাউই ও সোমালিল্যান্ডের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছিল। ব্রিটিশ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএসে এসব দেশ থেকে প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। তাই নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই যুক্তরাজ্য এ দেশগুলোর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করে আসছিল।

২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্য সরকার এ ধরনের বিভিন্ন স্বাস্থ্য অংশীদারত্ব কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল। বর্তমান প্রকল্পটির তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ এ মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে আগের বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় সবাই আশা করেছিলেন যে, এর মেয়াদ আবারও বাড়ানো হবে। কিন্তু বাজেট সংকটের কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার গত বছর ঘোষণা দিয়েছিল, সামরিক ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তারা বৈদেশিক সহায়তার বাজেট কমিয়ে দেবে। দেশটির মোট জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এ সহায়তার পরিমাণ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এফসিডিও মন্ত্রী ক্রিস এলমোর জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কম বাজেটে এখন এমন সব প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়া হবে যেগুলোর প্রভাব অনেক বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গ্লোবাল হেলথ পার্টনারশিপের প্রধান নির্বাহী বেন সিমস বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত। এর ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে যুক্তরাজ্যের যে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা ছিল, তা হাতছাড়া হতে পারে।’

কেনিয়ার স্বাস্থ্যকর্মীরাও আশঙ্কা করছেন, অর্থায়ন বন্ধ হলে এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, বাজেট কমলেও তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা টেকসই করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আরও