পাকিস্তান জানিয়েছে, পাঞ্জাব প্রদেশসহ লাহোরে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির’ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রবল বর্ষণের পাশাপাশি ভারতের বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিপর্যয় আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
পাকিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) এক কর্মকর্তার মতে, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশেষভাবে সংকটপূর্ণ হতে পারে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাভি নদীর ওপর ভারতের থেইন বাঁধ ৯৭ শতাংশ ভর্তি এবং যে কোনো সময় পানি ছাড়তে পারে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানকে আগাম সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। নিয়মিতভাবেই ভারত বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ে, যা পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হয়।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঞ্জাবে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ সতর্কবার্তা পাওয়ার পর স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়েছেন। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে শত শত গ্রাম থেকে মানুষ সরিয়ে নিচ্ছে।
রাভি, শতদ্রু ও চেনাব— এই তিনটি নদীতে এখন মধ্য থেকে উচ্চমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টায় পাঞ্জাব ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আরো ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে খাদ্য, ওষুধ ও মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
পাঞ্জাব প্রদেশের সেচমন্ত্রী কাজিম রেজা পিরজাদা বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পূর্ব দিকের নদীগুলোতে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে।‘
পাকিস্তানে এ বছর জুনের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মৌসুমি বর্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার অর্ধেক মৃত্যুই ঘটেছে আগস্ট মাসে। অপরদিকে, ভারতীয় কাশ্মীরেও এ মাসে বন্যায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।