যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে বিশ্বব্যাংক তাদের জলবায়ু কর্মসূচির প্রকাশ্য বার্তায় সুর কিছুটা নরম করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন মূল্যায়ন এবং জলবায়ু কর্মসূচির অর্থায়ন হ্রাসের পদক্ষেপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই জলবায়ু কার্যক্রম নিয়ে এক সময়ের উচ্চকণ্ঠ বিশ্বব্যাংক এখন অনেকটাই সংযত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙা জলবায়ু অর্থায়নের পাশাপাশি এখন ‘চাকরি সৃষ্টি’ এবং ‘ব্যবসাবান্ধব জ্বালানি উৎস’ যেমন গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তির উল্লেখ করছেন বেশি করে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, জলবায়ু খাতে বিনিয়োগ বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্য নিরসনের মূল লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করে না, তবুও তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও লেখায় জলবায়ু প্রসঙ্গ অনেকটাই কম।
বিশ্বব্যাংক বার্ষিক ঋণের ৪৫ শতাংশ জলবায়ু প্রকল্পে ব্যয় করবে—এই অঙ্গীকার এখনো বহাল। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে বিশ্বব্যাংকের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব স্পষ্ট। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি করেছেন এটি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী ও চীনের এজেন্ডাকে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার খেলা। একদিকে জলবায়ু-সংকট মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা, অপরদিকে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মহলের রোষ এড়িয়ে চলা।
অজয় বাঙা সম্প্রতি ‘অল অব দ্য অ্যাবাভ’ ধরনের জ্বালানি কৌশলের কথা বলেছেন, যেখানে নবায়নযোগ্য শক্তির পাশাপাশি গ্যাস, পারমাণবিক ও জলবিদ্যুৎকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তার মতে, আফ্রিকার মতো দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু বার্তায় এই রূপান্তর শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে বাস্তবভিত্তিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি আদতে বহুজাতিক সংস্থার একটি নতুন বাস্তবতা মেনে চলার প্রয়াস।
বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি আইএমএফও জলবায়ু প্রসঙ্গ কিছুটা কমিয়ে এনেছে সাম্প্রতিক বক্তব্যে। এই পরিবর্তন জলবায়ু অর্থায়নে ভবিষ্যৎ সংকোচন ডেকে আনতে পারে কিনা, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে এখনই স্পষ্ট, ২০২৪-এর নির্বাচনী উত্তাপ বিশ্বব্যাংককেও তার বার্তার ভাষা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
সূত্র: পলিটিকোর প্রতিবেদন থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত