ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ওমানে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সামনে রেখে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া ও বাণিজ্যিক জাহাজে সব ধরনের হামলা বন্ধে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে জাহাজে হামলার ঘটনাটি যে ভুল ছিল—তা ইরানকে জনসমক্ষে স্বীকার করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শনিবার বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, তেহরান এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ‘ভুল’ ছিল। তবে এর দায় দেশটির অভ্যন্তরীণ উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়েছে তেহরান।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা-পাল্টা হামলা চালায় দুই দেশ। এ ঘটনার জন্য পরস্পরবিরোধী অভিযোগ তুললেও উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিবিএস নিউজকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশটির একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী যুদ্ধ বন্ধে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা এও বলেন, তারা (ইরানি পক্ষ) আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে এসেছে এবং ভুল স্বীকার করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে হবে। নাহলে এর পরিণতি তেহরানের জন্য ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন তারা। একই সঙ্গে সিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে হামলার ঘটনাটি যে ভুল ছিল—তা ইরানকে জনসমক্ষে স্বীকার করার দাবি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, আগের যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা আর নেই।
ওমানে অনুষ্ঠেয় এ সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচনা ও কূটনীতিতে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও এ প্রতিনিধিদলে থাকছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে শুক্রবার কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে।