হরমুজ খুললে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের শর্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং অঞ্চলজুড়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফরের সময় ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব পৌঁছে দেন। সৌদি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃত এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের শর্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাবের কথা নিশ্চিত করেনি। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে এবং পরে জবাব দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবের খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখলে বিদেশি সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

চলমান সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করেছেন আসিম মুনির পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, আলোচনায় উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং সংঘাতের দ্রুত অবসানের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলেও জানিয়েছে পাকিস্তান।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও মুনিরের সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক সহকারী মেহদি তাবাতাবাই সফরটিকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করে এর কূটনৈতিক ফলাফল শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানও আলাদাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশ প্রণালির মধ্য দিয়ে অস্থায়ী একটি যৌথ নৌকরিডোর চালুর কাঠামো নিয়ে কাজ করছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ খুলতে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ একই সময়ে এগোচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরির আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা এখন আরও জোরালো হয়েছে।

আরও