প্রচ্ছদে ফিলিস্তিনি নারীকে নিগ্রহণের ছবি

ইসরায়েলের তোপের মুখে বিখ্যাত বামপন্থী ম্যাগাজিন লা’এসপ্রেসো

প্রচ্ছদে দেখা যায়, সশস্ত্র এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী স্মার্টফোন তাক করে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার সামনে রয়েছে দৃশ্যত উদ্বিগ্ন এক ফিলিস্তিনি নারী

অনলাইনে কূটনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ইতালির প্রভাবশালী বামপন্থী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন লা’এসপ্রেসো। ইতালিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সাময়িকীটির প্রচ্ছদ নির্বাচনকে ‘চাতুর্যপূর্ণভাবে বিকৃত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে লা’এসপ্রেসো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবিটি বাস্তব। খবর ফ্রান্স ২৪ ও ডব্লিউআইওএন।

ম্যাগাজিনটি তাদের সর্বশেষ সংখ্যার শিরোনাম দিয়েছে লা’বুজো, যার ইংরেজি ‘দ্য অ্যাবিউজ’। প্রচ্ছদে দেখা যায়, সশস্ত্র এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী স্মার্টফোন তাক করে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার সামনে রয়েছে দৃশ্যত উদ্বিগ্ন এক ফিলিস্তিনি নারী।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জনাথন পেলেড বলেন, ওই হাস্যোজ্জ্বল বসতি স্থাপনকারীর ছবি ‘ইসরায়েল যে জটিল বাস্তবতায় রয়েছে তা বিকৃত করে এবং স্টেরিওটাইপ ও ঘৃণা ছড়ায়’। অনলাইনে ইসরায়েলপন্থী অ্যাকাউন্টগুলো ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এটিকে ভুয়া বা এআই-জেনারেটেড কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

কেউ কেউ দাবি করেন, এটি ইহুদিদের মানবিক মর্যাদাকে হ্রাস করে এবং হলোকাস্ট-পরবর্তী ইহুদিবিরোধী প্রচারণার মতো স্টেরিওটাইপকে উসকে দেয়।

সমালোচনার জবাবে মুখ খুলেছেন ছবিটির আলোকচিত্রী পিয়েত্রো মাস্তুর্জো। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এটি বাস্তব। ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করে পিয়েত্রো জানান, ছবিটি পশ্চিম তীরের হেবরনের পশ্চিমে ইধনা এলাকায় ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তোলা।

তিনি বলেন, এটি ছিল ওই অঞ্চলের জলপাই সংগ্রহের প্রথম দিন। সে সময় সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল সেখানে আসে এবং ফিলিস্তিনিদের জলপাই তুলতে বাধা দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বসতি স্থাপনকারীর মুখভঙ্গি ছিল ‘একজন রাখাল তার পশুপালকে ডাকতে যে ধরনের অভিব্যক্তি ব্যবহার করে তার মতো’—যেন ফিলিস্তিনিদের নিজের পালিত পশু হিসেবে দেখছিলেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী।

ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ এবং পশ্চিম তীরের দখলকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় চলমান বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা জানাতে লা’এসপ্রেসো সংখ্যাটি উৎসর্গ করেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ম্যাগাজিনটি প্রচ্ছদ প্রত্যাহার বা ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

১০ এপ্রিলের ওই সংখ্যার সম্পাদকীয় নোটে ‘বসতি স্থাপনকারীর হাসি’ এবং ‘ব্যথিত আরব মেয়ে’র মধ্যে তুলনা টেনে ঘটনাটিকে চলমান সংঘাতের মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয় অংশে সংক্ষেপে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে পশ্চিম তীরের সংযুক্তি, যেখানে সেনারা বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা, লেবাননে অগ্রাসন, সিরিয়ায় সীমান্ত লঙ্ঘন ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সেখানে বলা হয়, ‘জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যা—এভাবেই জায়োনিস্ট ডানপন্থীরা “গ্রেটার ইসরায়েল”-এর রূপ দিচ্ছে।’

আরও