যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানরা। এর আগে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দেশটির সেনাদের ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। খবর রয়টার্স।
হুথিরা গতকালও সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথি যোদ্ধাদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
এর আগে মক্কা, জেদ্দা ও ইয়ানবুর মতো এলাকাগুলোয় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব।
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে সেনাদের হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। ক্ষমতা থেকে হুথিদের উৎখাত না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বৈঠক করেন। তারা মক্কা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা এবং সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান।
সৌদি আরবের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রীরা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা করেছেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো একটি পক্ষের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওগ্লু শুক্রবার সৌদি আরব সফরে যাবেন এবং সেখানে সৌদি ও পাকিস্তানের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গতকাল মার্কিন একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুথিদের কর্মকাণ্ডের দায় ইরানের নয় বলে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এর পরপরই এ বৈঠকের ঘোষণা আসে।
ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’ অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘হুথিরা তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।’ এর একদিন আগে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
এদিকে হুথিদের ওপর ইরান ঠিক কতটা সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। শিয়া ইসলামপন্থী হুথিরা স্থানীয় একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে ইয়েমেনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে।
তবে ইয়েমেনি সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর হুথিদের অগ্রযাত্রা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।