উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো ২৩ জন। ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের কিরেনিয়া বন্দর থেকে ফেরিটি তুরস্কের পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় প্রদেশ মেরসিনের তাসুজু বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বন্দর ছাড়ার পরপরই অজ্ঞাত কারণে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। কিরেনিয়া উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে এটি উল্টে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুর্ঘটনার পর ফেরিটির উল্টে যাওয়া কাঠামোর ওপর যাত্রীদের লাল লাইফ জ্যাকেট পরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের উদ্ধারে উপকূলরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি বেসরকারি নৌযানও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
দুর্ঘটনার পর উত্তর সাইপ্রাসের চারটি কোস্টগার্ড নৌযান ও একটি বেসরকারি যাত্রীবাহী নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তুরস্কও পাঁচটি কোস্টগার্ড নৌযান ও দুটি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত করেছে।
উত্তর সাইপ্রিয়ট প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানান, এই মুহূর্তে তাদের একমাত্র অগ্রাধিকার মানুষের জীবন রক্ষা করা। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা বাহিনী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে উল্টে যাওয়া ফেরির ভেতরে কেউ আটকা পড়লে তাকে উদ্ধার করা সহজ হবে না।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এর আগের দিন শনিবার সাইপ্রাসে প্রচণ্ড ঝড় হয়েছিল। ফেরিডুবির কারণ হিসেবে ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এরহুরমান জানান, আগের দিনের ঝড়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া নৌযাত্রার জন্য উপযোগী ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেছিল।