দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহ সৃষ্টির মূল হোতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ রায় ঘোষণা করা হয়। খবর রয়টার্স।
তবে এই মামলার প্রসিকিউটররা ইউনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলেন। মূলত তার কর্মকাণ্ড দেশে এক নতুন রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছিল। সঙ্গে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও। ফলে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রসিকিউটররা বলেছিলেন, ইউনের অসাংবিধানিক ও বেআইনিভাবে জারি করা জরুরি সামরিক আইন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতাকে খর্ব করেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থা।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এর আগে দেশটি ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল। তবে ১৯৯৭ সালের পর থেকে দেশে কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
সিউল ডিসট্রিক্ট আদালতে মামলার বিচারকাজ চলাকালে পুলিশ বাস দিয়ে আদালত ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
এছাড়া বিরোধী দলীয় নেতাদের জোরপূর্বক জেলে নিতে পার্লামেন্টে অভিযান চালানোর নির্দেশ এবং বিরোধী দলের কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ ও তল্লাশির জন্য পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারসহ ইউনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগেরও রায় ঘোষণা করবে আদালত।
এদিকে ৬৫ বছর বয়সী ইউন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সামরিক আইন জারি করার মতো ক্ষমতা তার ছিল এবং সরকারের কাজে বাধার বিষয়ে সতর্ক করতে তিনি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই নেতা বর্তমানে সিউল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। রায়ের ফলাফল যাই হোক, তিনি সম্ভবত সেখানেই থাকবেন। পাশাপাশি ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি আপিল আদালতের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি সর্বোচ্চ আদালতেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন।
বিচার বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম বিচার ছয় মাসের মধ্যে এবং আপিলসহ পুরো প্রক্রিয়া দুই বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। তবে বিচারকাজ প্রায়শই এর চেয়ে বেশি সময় ধরে চলে।
যদি বৃহস্পতিবার সিউল ডিসট্রিক্ট আদালত তাকে খালাসও দেয়, তবুও তার আইনি ঝামেলা শেষ হবে না। আটটি বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া ইউনকে জানুয়ারিতে একটি পৃথক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।
সামরিক আইন ঘোষণার পর তাকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টায় বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ওই সাজা দেয়া হয়। ইউন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
এদিকে ইউনের সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা মাত্র ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। জারির পরেই আন্দোলন ও পার্লামেন্টের ভোটে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।