ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংসের শর্ত থাকতে হবে: নেতানিয়াহু

চুক্তির বিষয়ে নিজের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধকরণের কোনো সক্ষমতাই রাখা যাবে না। কেবল প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা নয়, সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো চুক্তিতে শুধু পরমাণু সমৃদ্ধিকরণ থামালেই হবে না। তাদের পরমাণু অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করার শর্ত থাকতে হবে। খবর রয়টার্স।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ‘কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টস অব মেজর আমেরিকান জিউয়িশ অর্গানাইজেশনস’ এর বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে গাজার সব সুড়ঙ্গ ধ্বংসের কাজ শেষ করতে হবে। গাজায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ রয়েছে। যার ১৫০ কিলোমিটার ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় জেনেভায় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এক ইরানি কূটনীতিকের বরাতে খবর এসেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এমন একটি চুক্তি করতে চায়, যা উভয় পক্ষের জন্যই অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে।

তবে চুক্তির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধকরণের কোনো সক্ষমতাই রাখা যাবে না। কেবল প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা নয়, সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে কয়েক দশকের বিরোধ মেটাতে এবং সামরিক সংঘাত এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আলোচনায় বসে, যদিও সে আলোচনা এখনও সফলতার মুখ দেখেনি। মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে। আলোচনা সফল না হলে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্মেলনে নেতানিয়াহু আরো বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৩৮০ কোটি ডলার সহায়তা পাচ্ছে। যার বেশিরভাগ অর্থই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হয়। আর এই চুক্তির সময়কাল ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন শক্তিশালী দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, তারা সামরিক সহায়তার আর্থিক অংশ ধীরে ধীরে বাদ দিতে সক্ষম। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই সহায়তা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন তিনি। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহায়তার সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে অংশীদারত্বের সম্পর্কের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু।

আরও