ফিলিস্তিনের গাজার একটি সুড়ঙ্গ থেকে এক মার্কিন নাগরিকসহ ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গতকাল রাফাহ ক্রসিংয়ের সুড়ঙ্গের ভেতর তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। আইডিএফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি এসব জিম্মিকে কয়েক দিন আগেই হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছয় জিম্মির মরদেহ পাওয়ার পর দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন সাধারণ ইসরায়েলিরা। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিহত এসব জিম্মির নামও প্রকাশ করেছে। তারা হলেন কারমেল গ্যাট, অ্যাডেন ইয়েরুশালমি, হার্শ গোল্ডবার্গ-পলিন, আলেক্সান্ডার লোভানভ, আলমগ সারুসি ও মাস্টার সার্জেন্ট ওরি ড্যানিনো। তাদের মধ্যে হার্শ গোল্ডবার্গ-পোলিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। মার্কিন এ নাগরিকের মৃত্যুর খবরে হামাসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি গোল্ডবার্গ-পোলিনের মা-বাবার কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা, আমরা পৌঁছার কিছুক্ষণ আগে হামাসের সন্ত্রাসীরা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এরই মধ্যে মরদেহ ইসরায়েলে পৌঁছেছে।’
জিম্মিদের নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। আর ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, গত ডিসেম্বর থেকেই হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু হামাস রাজি হচ্ছে না। তিনি বলেছেন, গত ১৬ আগস্টও যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু হামাস এতে রাজি হয়নি। নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যারা জিম্মিদের হত্যা করে তারাই যুদ্ধবিরতি চায় না।’ তবে তা সত্ত্বেও হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
এদিকে ছয় জিম্মির মরদেহ পাওয়ার পর দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন সাধারণ ইসরায়েলিরা। জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন সকালে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন। তারা বলেন, নেতানিয়াহু যদি হামাসের সঙ্গে চুক্তি করতেন তাহলে এ ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যেত। কারণ তারা কয়েক দিন আগেও জীবিত ছিলেন। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু ও তার মৃত মন্ত্রিপরিষদের কারণে জিম্মিরা জীবিত ফিরতে পারেননি।