রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলায় চলতি জুলাইয়ে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও সীমান্ত অঞ্চলেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর সিএনএন।
ইউক্রেন সরকারের তথ্যানুযায়ী, রাশিয়ার হামলায় চলতি মাসে দেশটিতে অন্তত ৩৭৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২ হাজার ১২৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রাজধানী কিয়েভও একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া প্রায় ১ হাজার ৭০০ ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টির বেশি গাইডেড এরিয়াল বম্ব এবং ৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে জেলেনস্কি বলেন, ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস মোকাবেলায় রাশিয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে হবে। অংশীদার দেশগুলোর গুদামে নয়, ইউক্রেনের হাতে থাকা প্রতিটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রই মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করছে। তার মতে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এখন আরো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন।
গতকাল দেশটির উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভে একটি সুপারমার্কেটে রুশ ড্রোন হামলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। এ ঘটনার পর আবারো মিত্রদের কাছে প্যাট্রিয়টসহ উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান জেলেনস্কি।
এদিকে ইউক্রেনও গত সপ্তাহে রাশিয়ার একাধিক তেল পরিশোধনাগারসহ জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জেরে রাশিয়া বছরের শেষ পর্যন্ত ডিজেল রফতানি নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে।
তবে রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, রাশিয়া ও অধিকৃত ইউক্রেনের অনেক এলাকায় এখনো জ্বালানি সংকট রয়েছে, যদিও রুশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার দাবি করছেন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া উত্তর ইউক্রেনের জ্বালানি কেন্দ্র, কৃষ্ণসাগর ও দানিউব নদীপথের বন্দরগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। একই সময়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো রোমানিয়ার বিমান বাহিনী কৃষ্ণসাগরের ওপর নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমায় একটি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশর দান রুশ আকাশসীমা লঙ্ঘনকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনার পর বুখারেস্টে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।